সাবধান! এই মারাত্মক ড্রাগ আপনার ঘরেই লুকিয়ে রয়েছে

আপনি অ্যালকোহল পান করেন না, গাঁজ খান না! এমনকি আপনি ধূমপানও করেন না। কিন্তু আপনি জানেন কি, আপনার অজান্তেই প্রতিনিয়ত আপনার শরীরে প্রবেশ করছে মারাত্মক ড্রাগ। এখনি সাবধান হোন!

কি বুঝতে পারছেন না, কোন বস্তুটি ড্রাগ? চিনি! রাস্তাঘাটের কথা তো ছেড়েই দিন। আপনার বাড়ির রান্নাঘরেও চিনির একাধিপত্য অনস্বীকার্য। আপনি যে খাবারই খান না কেন, কমবেশি চিনি আপনি সেই খাবারে মেশান। আর সরবত, বা সফট ড্রিংকস হলে তো কথাই নেই। আপনি নিজেও জানেন না যে, আপনার অজান্তেই প্রতিনিয়ত ড্রাগ প্রবেশ করছে আপনার শরীরে।
সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, চিনির মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে এক ভয়ঙ্কর ড্রাগ, যা আপনাকে প্রতি দিন একটু একটু করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে চিনি খেলে শারীরিক কোনও সমস্যা দেখা যায় না। তবে এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব মারাত্মক, বিশেষত শিশুদের ক্ষেত্রে। চিনি কিংবা চিনি জাতীয় খাবার শিশুদের পছন্দের। আর এই ধরনের খাবার না পেলেই শিশুরা বায়না জুড়ে দেয়। এমনকী, পছন্দের জিনিসটি না পেলে তাদের মধ্যে রাগের বহিঃপ্রকাশও দেখা যায়।

গবেষকরা জানাচ্ছেন যে অ্যালকোহল, নিকোটিন, গাঁজা, চরস, হেরোইনের মতো মারাত্মক মাদকগুলির মতোই কাজ করে চিনি। এগুলো যেমন কোনও মানুষকে আসক্ত করে, ঠিক তেমনই চিনিও মানুষকে আসক্ত করে।

১৯৩৪ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে মিষ্টি, এবং মিষ্টি জাতীয় খাবারের বিক্রি সব থেকে বেশি বৃদ্ধি পায়। নিউট্রিশনিস্টরা বার বার চিনিকে ‘আসক্তজনিত পদার্থ’ বলে চিহ্নিত করেছেন। মিষ্টির এই খারাপ দিকটি সম্পর্কে সাবধান করেছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞরাও। বার বার বারণ করা সত্ত্বেও চিনির ব্যবহার একটুও কমেনি, বরং বেড়েছে।

বাংলাদেশের এমন কোনও জায়গা নেই, যেখানে চিনির ব্যবহার হয় না। ধীরে ধীরে মানুষের ভয়ঙ্কর অভ্যাসে পরিণত হয় চিনি খাওয়া। এমন অবস্থা হয় যে, একটু চিনি কম হলে বা মিষ্টি জাতীয় খাবার হাতের কাছে না পেলে অনেকেই বিরক্তি প্রকাশ করেন। গবেষকদের দাবি, এই সমস্ত লক্ষণ মাদক ব্যবহারকারীদের মধ্যে দেখা যায়।

পুরোটাই তো জানলেন। এ বার থেকে মিষ্টি জাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকুন। প্রয়োজনে বন্ধ করে দিন চিনির ব্যবহার। আপনিই ভাল থাকবেন আশা করছি।

Image Credit: ebela.in

Image Credit: newstarget.com

মন্তব্য