পোরশায় আম চাষীদের মুখে সোনালী হাসি

ফিরোজ মাহমুদ
নওগাঁ প্রতিনিধি:

বরেন্দ্র অঞ্চল নওগাঁর পোরশা উপজেলায় এক সময় যে জমিগুলোতে চাষ হতো শুধুই ধান, এখন ধানের পাশাপাশি ওই জমিগুলোতে চাষ হচ্ছে আম। ধানের পাশাপাশি গড়ে উঠেছে আমের বাগান। ধানের পাশাপাশি আমের বাগান এখন সবুজ দৃষ্টিনন্দন উঁচু নিচু বরেন্দ্রভূমি। দিন যতই যাচ্ছে এ অঞ্চলে আমের আবাদ ততই বাড়ছে। আমের ফলনও হচ্ছে ব্যাপক। আবাদি জমিগুলোতে সারি সারি আম গাছের বাগান যেন সৌন্দর্যের পাশাপাশি সবুজ ছায়া এনে দিয়েছে। ধান চাষের পাশাপাশি আম নিয়ে এখন নতুন আশায় পোরশার কৃষক।

চলতি মৌসুমে কৃষকরা ধান নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও আর কিছুদিন পরেই ঝুঁকে পড়বে আমে। এখন কৃষকরা আমন ধান কেটে ঘরে তোলা আর মাড়াই কাজে ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ধান ঘরে তোলা হলেই একই জমির আম গাছগুলোতে ভিটামিন ও কীটনাশক স্প্রে করতে ব্যাস্ত হবেন চাষিরা। নওগাঁর বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে পরিচিত পোরশা উপজেলার চারদিকে এখন শুধু গাছ আর গাছ। এক একেকটি বড় বড় আম বাগান। রাস্তার দু’ধারে তাকালেই চোখে পড়বে দৃষ্টিনন্দন এসব আমের বাগান। তাকালেই যেন নজর কাড়ে সবার।

এখানকার আম মৌসুমে প্রতি বছর এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রপ্তানি করা হয়। পর পর গত দু’বছরে দু’বার যুক্তরাজ্যেও রপ্তানি করা হয়েছে এখানকার সুমিষ্ট আম। এখানে অসংখ্য জাতের আম উৎপাদন হচ্ছে। সবগুলোই বাহারি রসালো এবং অনেক সুস্বাদু ও সুমিষ্ট। আমগুলোর মধ্যে ল্যাংড়া, গোপালভোগ, ক্ষিরসাপাত, হিমসাগর, ফজলি, আম্রপালি, আশ্বিনা, ক্ষুদি খিরসা, লখনা, মহোনভোগ, বারি-থ্রী, বারি-ফোর অন্যতম।

আমকে ঘিরে আমের মৌসুমে এলাকায় বেশ আনন্দ উৎসব তৈরি হয়। উপজেলার বিভিন্ন বাজার এবং মোড়ে গড়ে উঠে কয়েকশ আমের আড়ৎ। সরাসরি গাছ থেকে বা বিক্রেতাদের নিকট থেকে আম কেনার জন্য এখানে আসেন রাজধানী ঢাকা এবং চাঁপাই নবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার ক্রেতারা। স্থানীয় বেকারদের কয়েকমাসের জন্য কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়। কাজ না থাকা দিনমজুরদের কাজের সুযোগ মিলে। সব মিলিয়ে আমের মৌসুমে এলাকায় যেন আনন্দ উৎসবের আমেজ দেখা দেয়। জানা যায়, পোরশা উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে প্রায় ১৭ বছর পূর্ব থেকে আমগাছ রোপণ করা শুরু হয়। এতে সফলের মুখ দেখতে পেয়ে ২০০৫ সাল নাগাদ থেকে এ উপজেলার কৃষকরা ব্যাপক ভাবে আম গাছ রোপণ করা শুরু করেন। এবং বর্তমান সময়েও কৃষকরা ব্যাপকভাবে আমগাছ রোপণ করা অব্যাহত রেখেছেন।

পোরশা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলার ৬ ইউপিতে সর্বমোট ১৮২৫০ হেক্টর আবাদি জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। যার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮২৫০ হেক্টর। আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৮৫৫০ টন। অপরদিকে, বর্তমানে পোরশা উপজেলায় ৬ হাজার হেক্টরেরও অধিক আবাদি জমিতে আম চাষ করা হচ্ছে। গত আম মৌসুমে এখানে আমের উৎপাদন প্রায় ৬০ হাজার টন ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

পোরশা উপজেলার আম বেশ সুস্বাদু হওয়ায় সকল স্থানে এ আমের চাহিদা অনেক। আর তাই এ এলাকার চাষিরা আমের ভাল দামও পান। উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউপির সহড়ন্দ গ্রামের আম চাষি রাশেদুল হক জানান, ১ বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে সর্বোচ্চ ধান চাষ হয় ২০ মণ। বর্তমান বাজারে ২০ মণ ধানের দাম প্রায় ১৪ হাজার টাকা। ১ বিঘা (৩৩ শতক) জমি চাষ করতে খরচ হবে প্রায় ৭ হাজার টাকা। অবশিষ্ট বা লাভ থাকবে ৭ হাজার টাকা। আর একই পরিমান জমিতে আম চাষ করলে গাছের আকার ভেদে সকল প্রকার খরচ বাদ দিয়ে লাভ হবে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। বা তারও অধিক। তিনি জানান, তাই বরেন্দ্র অঞ্চল পোরশার কৃষকরা এখন ধানী জমিতে আম বাগান তৈরি করছেন। আর ধানের পাশাপাশি আম থেকেও প্রচুর পরিমাণে আয় করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহবুবার রহমান জানান, পোরশা উপজেলায় এক সময় শতভাগ জমিতে আম চাষ হবে। এখানকার মাটি আমের জন্য বেশ উপযোগী। এ উপজেলার আম সুস্বাদু হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় এর চাহিদা ভালো রয়েছে। তাই কৃষকরা ভালো দামও পান।

মন্তব্য