রহস্যময় আদিবাসী গোষ্ঠি জারোয়া

আদিবাসীদের নিয়ে আমাদের মানুষের রয়েছে বিভিন্ন রকমের কৌতুহল, কেমন তাদের জীবনযাপন, আচার নীতি! অনেক আদিবাসীদের নিয়ে বিভিন্ন গবেষকরা গবেষণা করে উঠিয়ে নিয়ে এসেছেন তাদের জীবনযাপন, আচার-নীতি। সভ্যতার খুব কাছাকাছি বসবাস করা এক জাতিগোষ্ঠি জারোয়া, যাদের সম্পর্কে কোন গবেষণায় এখন পর্যন্ত খুব বেশি তথ্য সংগ্রহ করতে পারেনি, তারা খুব সচেতন ভাবেই আড়াল করতে পেরেছে নিজেদের আচার-নীতি। এবং তারা নিজেদের স্বাতন্ত্রতা বজায় রাখতে সক্ষম হযেছে।

আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বসবাসরত জারোয়া জাতি শুধু যে নিজেদের আড়ালেই রেখেছে তাই নয়, গোপনীয়তা বজায় রাখতে প্রাণ দিতে কিংবা নিতেও তাদের কোনো দ্বিধা নেই। দ্বীপটিতে ভারতের শাসন রয়েছে শুধুই কাগজে কলমে। জারোয়াদের সম্পর্কে দিল্লি সরকারের কাছেও খুব বেশি তথ্য নেই। এমনকি দ্বীপটিতে ঠিক কতজন আদিবাসী রয়েছে সে সম্পর্কেও নেই কোনো সঠিক তথ্য। উ্কিপিডিয়ার মতে ২৫০-৪০০।কারও কারও মতে জারোয়াদের সর্বশেষ সংখ্যা হবে অর্ধশত। আবার কারও কারও মতে এই সংখ্য হবে কয়েকশ’ কিংবা হাজার।

এদের সম্পর্কে যতদূর জানা গেছে তা হল, জারোয়ারা মূলত শিকার নির্ভর জাতি। বেঁচে থাকার জন্য যা যা প্রয়োজন তার উপকরণ মূলত শিকার, মাছ ধরা ও বন্য লতাপাতার মাধ্যমেই জারোয়ারা সংগ্রহ করে থাকে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, সভ্যতার উৎকর্ষতা দূরে থাক, এখন পর্যন্ত তারা আগুনের ব্যবহার জানে না। কিংবা জানলেও তা ব্যবহারে আগ্রহী নয়। খাদ্য উৎপাদনের জন্য কৃষিকাজের প্রমাণ পর্যন্ত মেলেনি।

তারা কোন ভাষায় কথা বলে, কিংবা তাদের সমাজ সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা নেই খোদ ভারত সরকারেরই। আধুনিক সভ্যতার মানুষ তাদের সেন্টিনাল বা জারোয়া নামে চিনলেও জানা নেই তারা নিজেদের কি নামে ডাকে!

পৃথিবীতে প্রথম মানব সভ্যতার উৎপত্তি ঘটে আফ্রিকায়। জীব বিজ্ঞানীদের ধারণা, হাজার হাজার বছর আগের সেই জাতির সঙ্গে জারোয়াদের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। বিজ্ঞানীদের আরো ধারণা, আন্দামানে এই জাতি রয়েছে কমপক্ষে ৬০ হাজার বছর ধরে।

Image Credit: go2andaman.com

মন্তব্য