গার্লস হোস্টেলে বাঙালি মেয়েরা এই বিচিত্র কাজগুলো করে!


প্রতীকি ছবি

পড়াশুনা বলেন আর কর্মক্ষেত্র, প্রতিটা ক্ষেত্রেই আজ মেয়েরা ছেলেদের সমকক্ষ হয়ে উঠেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো ছেলেদেরও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। পেশা কিংবা লেখাপড়ার প্রয়োজনে আজকের মেয়েদের অনেক সময়েই নিজেদের আত্মীয়স্বজনের থেকে দূরে অন্য কোনও শহরে গিয়ে থাকতে হয়। সে সময়ে প্রধানত মেস কিংবা হোস্টেলই হয় তাদের আশ্রয়। গার্লস হোস্টেল বা লেডিজ হোস্টেল মানেই মেয়েদের নিজস্ব জগত। পুরুষদের প্রবেশ সেখানে নিষিদ্ধ। ফলে হোস্টেলের বাইরের দুনিয়ায় যে সমস্ত কাজ মেয়েদের ক্ষেত্রে ‘নিষিদ্ধ’, ‘অশোভন’ কিংবা ‘অদ্ভুত’ বলে বিবেচিত হয়, তার অনেকগুলিই বিন্দাস চলতে পারে লেডিজ হোস্টেলের ভিতরে। কী সেই সমস্ত কাজ? হোস্টেলে দীর্ঘ দিন থেকেছেন, এমন কিছু বাঙালি মেয়ের কাছ থেকেই জানা যায় এই প্রশ্নের উত্তর—

১. বিচিত্র খাদ্যাভ্যাস তৈরি করা:
হোস্টেলে যে খাবার দেওয়া হয়, অনেক সময়েই তা মুখে তোলার যোগ্য হয় না। কোনও কারণে খেতে একটু রাত হয়ে গেলে, মেলে না কোনও খাবারই। ফলে তখন হাতের কাছে যা পাওয়া যায়, তা-ই খেয়েই মেটাতে হয় ক্ষুধা। ডাল-ভাতের সঙ্গে চানাচুর, কিংবা ঝুড়িভাজা দিয়ে রুটি খাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে হোস্টেল-নিবাসী অনেক মেয়েরই। আর ম্যাগি তো হোস্টেল-জীবনে ক্ষুধার মুহূর্তে প্রায় অনিবার্য সঙ্গী হয়ে থাকে।

২. বাথরুম নিয়ে ঝগড়া:
হোস্টেল মানেই যত সংখ্যক বাসিন্দা, তার চেয়ে অনেক কম সংখ্যক বাথরুম। কাজেই বাথরুমে যাওয়ার তাড়া থাকলেও সব সময়ে বাথরুম খালি মেলে না। সেই সময়ে যে মেয়ে বাথরুমটি এনগেজ করে রেখেছে, সমস্ত রাগ গিয়ে পড়ে তার উপরেই। তাকে বেশি তাড়া দিলেই শুরু হয় চেঁচামিচি, লেগে যায় ঝগড়া।

৩. মেক-আপ কিট নিয়ে ঝগড়া:
ঘর একটা, ঘরে ড্রেসিং টেবিল একটা, কিন্তু বাসিন্দা হয়তো চারটি মেয়ে। একটি ড্রেসিং টেবিলেই জমা হচ্ছে তাদের মেক-আপের যাবতীয় জিনিসপত্র। ফলে ‘তুই আমার লিপস্টিকটা নিলি কেন?’, ‘মোটেই না, বরং তুই-ই আমার আই লাইনারটা ইউজ করেছিস’—এই জাতীয় ঝগড়া গার্লস হোস্টেলে লেগেই থাকে।

৪. দল বেঁধে পর্ন ফিল্ম দেখা:
ইন্টারনেট, ল্যাপটপ কিংবা স্মার্টফোন আজকের দিনে কার্যত সকলের হাতে হাতে পৌঁছে দিয়েছে পর্ন ফিল্মকে। বাবা-মায়ের সঙ্গে যখন মেয়েরা থাকে, তখন সব সময়ে নিশ্চিন্তে পর্ন ফিল্ম দেখার সুযোগ মেলে না। বন্ধুদের সঙ্গে বসে চুটিয়ে পর্নের আনন্দ উপভোগের সুযোগ তো হয় না বললেই চলে। কিন্তু হোস্টেল-জীবনে সেই কাজ করার বাধা নেই কোনও।

৫. অল্পসল্প নেশা করা:
সমাজ যতই ‘আধুনিক’ হয়ে থাকুক, মেয়েদের মদ খাওয়া বা নেশা করাকে এখনও মোটেই ভাল চোখে দেখে না সমাজের একটা বড় অংশ। কিন্তু গার্লস হোস্টেলের চার দেওয়ালের অন্দর মহলে মেয়েদের অবাধ স্বাধীনতা। ফলে হোস্টেলের ঘরে মাঝেমধ্যে নেশা করতে তাদের বাধা নেই কোনও।

Image Credit: rentalwala.com

মন্তব্য