ঘুরে আসুন কুয়াশামাখা ঠিকানার শীতের আসল বাড়ি থেকে

শীত তো চলেই এসেছে। ঘুরেবেড়ানোর সঠিক সময়টাই এখন। সারা বছরই কিন্তু ঘুরে বেড়ানো যায়, তবে ঋতুভেদে বেড়ানোর কিছু রকমফের না হলে এ জীবনটাই কেমন পানসে মনে হত৷ গরমে একরকম, বর্ষায় একরকম আবার শীতে আরেকরকম৷ চলুন শীতের সময়টা উপভোগ করে আসি কুয়াশামাখা এই ঠিকানা থেকে।

হাফলং

আসামের উত্তর কাছাড় জেলার সদর শহর হাফলং৷ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৬৮০ মিটার৷ এখানে বাস করেন কাছাড়ি উপজাতির মানুষরা৷ এদের ভাষা হল দিমাশি৷ হাফলং এসেছে ‘হাঁফলাঁও’ শব্দটি থেকে৷ দিমাশি ভাষায় হাঁফলাঁও কথার অর্থ উইয়ের ঢিপি৷ চমৎকার পাহাড়ি প্রকৃতি এখানকার প্রধান আকর্ষণ৷ পাইন আর নীল অর্কিডে ছেয়ে থাকে এই শৈলশহর৷ ফুলের শহর বলা হয় হাফলংকে৷ নানা ধরনের ফুল, বিরল শ্রেণির পাখি, নাশপাতি, আনারস, কমলালেবু প্রভৃতি ফলের সমাহার আর সুন্দর প্রাকৃতিক শোভা হাফলং-এর প্রধান আকর্ষণ৷ আর শহরের একেবারে মধ্যখানে অবস্থিত একটা লেক। আর এই স্বচ্ছ লেকের পানিতে বোটিং করতে পারেন৷ ঘুরে দেখুন শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত চক বা ম্যাল৷ এছাড়া প্যারাগ্লাইডিং করতে পারেন৷

কীভাবে যাবেন

প্রথমে আপনাকে কলকাতা যেতে হবে। বাসে করে যান, ট্রেনে কিংবা প্লেনে। কোলকাতা থেকে যদি বিমানে যান তাহলে নামতে হবে শিলং বিমানবন্দরে৷ সেখান থেকে গাড়িতে হাফলং, দূরত্ব ২৫২ কিলোমিটার৷ গুয়াহাটি এয়ারপোর্ট হয়ে এলে দূরত্ব ৩৪৫ কিলোমিটার৷ ট্রেনেও আসা যাবে গুয়াহাটি থেকে৷

চাম্বা

ভ্যালি অফ মিল্ক অ্যান্ড হানি’ বলা হয় চাম্বাকে৷ একসময় দুধ আর মধুর জন্য চাম্বা প্রসিদ্ধি ছিল৷ সেই থেকেই এমন নামকরণ৷ ধৌলাধার পাহাড়ে রবি ও চন্দ্রভাগাকে ঘিরে প্রায় তিন কিলোমিটার জায়গা জুড়ে গড়ে উঠেছে এই প্রাচীন পাহাড়ি শহর৷ পাহাড়-নদী সব মিলিয়ে চাম্বার সৌন্দর্য অতুলনীয়৷ শহরের মাঝখানে ‘চৌগান’৷ এই অঞ্চল আসলে বাজার এলাকা৷ এপ্রিল মাসে এখানেই বসে বিরাট মেলা, যার নাম ‘সুহি’৷ এখানে ঘুরে দেখুন ভুরি সিংহ মিউজিয়াম৷ এই সংগ্রহশালা সোমবার ও অন্যান্য ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে৷ অসংখ্য মন্দির গোটা চত্বর জুড়ে৷ চামুণ্ডা মন্দিরটি দেখবেন অবশ্যই৷ হরিরাই মন্দিরে দেখা মিলবে চতুর্মুখ বিষ্ণুমূর্তি৷ ৪০ কিলোমিটার দূরে শক্তিদেবী মন্দির৷ দেবীর মূর্তি তামার তৈরি৷ হাতে সময় থাকলে ঘুরে আসুন মণিমহেশ৷ ট্রেকিং যাঁরা ভালবাসেন, তাঁদের জন্য চাম্বা উপত্যকার পোঙ্গি ভ্যালি আদর্শ৷ ১৭৬ কিলোমিটার দূরে এই ভ্যালিতে রক ক্লাইম্বিং খুব জনপ্রিয়৷

কীভাবে যাবেন

কলকাতার শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে যেতে হবে পাঠানকোট৷ পাঠানকোট থেকে চাম্বার দূরত্ব ১২২ কিলোমিটার৷ সময় লাগবে সাড়ে চার ঘণ্টা৷ ফ্লাইটে গেলে কলকাতা থেকে দিল্লি হয়ে কানেক্টিং ফ্লাইটে ধরমশালা৷ সেখান থেকে গাড়িতে চাম্বা৷

পোনমুড়ি

মালায়লম ভাষায় পোনমুড়ির অর্থ ‘গোল্ডেন ক্রাউন’৷ খুব একটা পর্যটকদের ভিড় এখানে পাবেন না৷ ছোট্ট হিলস্টেশন৷ চা-বাগান ঘেরা এই জায়গা৷ পাহাড়ি সরু রাস্তা৷ দু’ধারে সবুজ গাছ, মাথার ওপর চাঁদোয়া তৈরি করেছে৷ এখানে বেশ কিছু স্পাইস প্ল্যাণ্টেশন আছে৷ ট্রাকিং করেও যেতে পারেন৷ ছোট ছোট নদী চোখে পড়বে চলার পথে৷ রয়েছে ঝরনা৷ ঘুরে আসুন গোল্ডেন ভ্যালি৷ এর খুব কাছেই কল্লার নদী৷ প্রচুর মাছ চোখে পড়বে৷ ইচ্ছে হলে মাছ ধরতে পারেন৷ দেখে নিন মিনমুট্টি জলপ্রপাত৷ কাছাকাছিই রয়েছে পেপার ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি আর ডিয়ার পার্ক৷

কীভাবে যাবেন

ফ্লাইটে গেলে কলকাতা থেকে তিরুবনন্তপুরম এয়ারপোর্টে নামতে হবে৷ ট্রেনে গেলে তিরুবনন্তপুরম সেণ্ট্রাল রেলওয়ে স্টেশন৷ সেখান থেকে গাড়িতে পোনমুড়ি৷

Image Credit: thenortheasttoday.com
Image Credit: groupouting.com

মন্তব্য