বাজেটে শিশুদের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি এমপি জেবুন্নেছার

Jebunnesa Afroz MP

সোহানুর রহমান:

রাজধানীতে ‘শিশুদের বাজেট বিশ্লেষণ’ বিষয়ক এক আলোচনায় অংশ নিয়ে আসন্ন জাতীয় বাজেটে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের খাতগুলোতে শিশুকল্যাণে বরাদ্দ বৃদ্ধির আহবান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের শিশু অধিকার ককাসের সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ এমপি। পাশাপাশি শিশুকেন্দ্রিক বাজেট বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জণপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহনের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রকে সবার আগে শিশুর অধিকার ও প্রয়োজন মেটানোর তাগিদ দিয়ে বরিশাল ৫ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, আসন্ন বাজেট অধিবেশনে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে শিশুদের জন্য বাজেট বাড়ানোর সুপারিশ করা হবে। কারণ শিশুদের সুরক্ষা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই। তিনি শিশুর সার্বিক উন্নয়নে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সাথে প্রশাসনকেও সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, গত বৃহঃস্পতিবার রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনে “রিপোর্ট ডেসিমিনেশন এ্যান্ড ডায়ালগ: চাইল্ড বাজেট এনালিসিস এ্যান্ড এডভোকেসি’ শীর্ষক এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। যৌথভাবে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে সেন্টার ফর সার্ভিসেস এ্যান্ড ইনফরমেশন অন ডিজএ্যাবিলিটি (সিএসআইডি) এবং সেভ দ্যা চিলড্রেন।

জাতীয় সংসদে শিশু অধিকার বিষয়ক সংসদীয় ককাসের সদস্য কবি কাজী রোজী এমপি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং সেন্টার ফর বাজেট এ্যান্ড পলিসির পরিচালক ড. এম আবু ইউসুফ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ধীন লেবার ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিসুল আওয়াল এবং সিএসআইডি’র নির্বাহি পরিচালক খন্দকার জহুরুল আলম।

সেভ দ্যা চিলড্রেন-এর ফিন্যান্স এ্যাডভাইজার আশিক ইকবালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ‘শিশুদের বাজেট বিশ্লেষণ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন শিশু প্রতিনিধি সিলেটের গোয়াইন ঘাটের মেহেরজান বেগম, ঢাকার আলমগীর কবির এবং আরিফুর রহমান।

কবি কাজী রোজী এমপি জাতীয় বাজেটকে শিশুর উন্নয়নের বাতিঘর উল্লেখ করে বলেন, শিশুর শিক্ষা, সংস্কৃতি ও খেলাধুলার উন্নয়নেও বাজেট বাড়াতে হবে। যাতে আমাদের প্রতিটি শিশু সমান সুযোগ নিয়ে বেড়ে উঠতে পারে।

অধ্যাপক আবু ইউসুফ শিশু শ্রম নিরসনে সরকারের শিশু পূনর্বাসন কর্মসূচির উল্লেখ করে বলেন, একটি শিশুকে পরিপূর্ণভাবে পূনর্বাসন করতে হলে জনপ্রতি প্রতিমাসে ৩৮০০ টাকা বরাদ্দ করতে হবে। তিনি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর)-এ শিশু কল্যাণকে অন্তর্ভুক্ত করতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি ৪৫ শতাংশ জনগোষ্ঠীর জন্য একটি শিশু অধিদপ্তর গঠনেরও সুপারিশ করেন।

আনিসুল আওয়াল শিশু স্বাস্থ্যখাতের প্রতি বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির আহ্বান জানান। তিনি শিশু শ্রম নিরসন প্রকল্পের বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি বহুমুখি প্রকল্প গ্রহণের সুপারিশ করেন।

মন্তব্য