ঢাকার যে দুই জায়গায় হচ্ছে সবচেয়ে বেশি খুন

|

রাজধানীতে ক্রমাগত ধরন পাল্টে বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়ে চলেছে অপরাধ। সড়কে বা রিকশায়, বাসে কিংবা ব্যক্তিগত গাড়িতে চলাচলের সময়, সকাল-দুপুর এমনকি সন্ধ্যায় জনাকীর্ণ কিংবা ফাঁকা রাস্তায় মানুষ ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ছে। পিছিয়ে নেই অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, চোর-ডাকাতরাও। খুনোখুনির মতো অপরাধ এখন কিছুটা কম; কিন্তু আশঙ্কাজনভাবে বাড়ছে ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধ। এমনকি বাড়ছে মাদককেন্দ্রিক নানা সামাজিক অপরাধ।

কিছুদিন এসব অপরাধী চক্রের তৎপরতা কম লক্ষ্য করা গেলেও এখন প্রায় প্রতিদিনই রাজধানীর কোথাও না কোথাও ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক ঘটনা ঘটাচ্ছে তারা। এ কারণে নগরবাসীর মনেও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-আতঙ্ক। দিন থেকে রাত, আবার রাত থেকে ভোর পর্যন্ত নগরীতে বেপরোয়া ও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে এসব অপরাধী। প্রতিনিয়ত রাজধানীতে খুন, ছিনতাই ও মাদক সংক্রান্ত অপরাধ বেড়েই চলছে। তবে থানাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি হত্যার ঘটনা ঘটেছে ডিএমপি’র ওয়ারি ও মিরপুর বিভাগে। আর চুরি ও মাদক সংক্রান্ত অপরাধ বেশি ঘটেছে তেজগাঁও বিভাগে। ২০২১ সালে ঢাকার থানাগুলোতে মামলার সংখ্যাও বেড়েছে। যদিও পুলিশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর তৎপরতার কারণেই বেড়েছে মামলার সংখ্যা। অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, অপরাধ সংগঠিত হওয়ার আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

রাজধানীর থানাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, ২০২১ সালে অপরাধের মামলা হয়েছে ২৭ হাজার ৪৬১টি। সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে মাদক নিয়ে। এরপর রয়েছে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও দস্যুতার মামলা। যা ২০২০ সালের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি। বিভিন্ন অপরাধে ২০২১ সালে সব মিলিয়ে গ্রেফতার করা হয় ৫০ হাজারের মত ব্যক্তিকে। আগের বছর সংখ্যাটি ছিল ৪২ হাজার ৩৬৯।

ডিএমপির হিসাব বলছে, রাজধানীতে অপরাধ দমন করতে গিয়ে ২০২১ সালে ৬৯ পুলিশ আক্রান্ত হয়েছেন। সাধারণ মানুষ বলছেন, ছিনতাইয়ের কারণে ভোর এবং সন্ধ্যার পর সড়কে চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

ঢাকার মধ্যে যে কয়টি ডিএমপির বিভাগ রয়েছে এর মধ্যে খুনের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ওয়ারি এবং মিরপুর বিভাগে। ঢাকা মহানগরে গত বছর যে ১৬৬টি খুনের ঘটনা ঘটেছে, তার মধ্যে ৩৫টি হয়েছে ডিএমপির ওয়ারি বিভাগে, ২৬টি মিরপুরে, এরপরই রয়েছে গুলশান-বানানী অন্য বিভাগগুলো। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা ঘটনা এবং মাদক মামলা বেশি হয়েছে বনানী এবং তেজগাঁও বিভাগে।

ডিএমপির পাবলিক রিলেশনস অ্যান্ড মিডিয়া উপকমিশনার মোহাম্মদ ফারুক হোসেনের দাবি, যে এলাকায় নিম্ন আয়ের ও ভাসমান মানুষ বেশি, সেখানে অপরাধ বেশি।

রাজধানীতে অপরাধের এমন চিত্রে অপরাধ বিশ্লেষক ঢাবি শিক্ষক তৌহিদুল হক বিচারহীনতা, পুলিশের ব্যর্থতাসহ নানা বিষয় সামনে আনেন। এতো কিছুর মধ্যেও আশার খবর হলো ঢাকা মহানগরীতে গড় হারে খুন, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও দস্যুতা কমেছে।




Leave a reply