বিরল প্রজাতির কচ্ছপের পিঠে ভারতীয় স্যাটেলাইট

|

ভারতীয় স্যাটেলাইট বসানো একটি বিরল প্রজাতির কচ্ছপ রোববার সুন্দরবনের করমজল কুমির প্রজনন কেন্দ্রে আনা হয়। শনিবার খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার কাজীরহাট এলাকা থেকে কচ্ছপটি উদ্ধার হয়। পরে পুলিশ এটিকে বন বিভাগের কাছে হস্থান্তর করে।

করমজলের বন কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার আজাদ কবির জানান, উদ্ধার হওয়া কচ্ছপটি বিরল প্রজাতির বাটাগুর কচ্ছপ।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দে’র বরাত দিয়ে আজাদ কবির বলেন, ‘কচ্ছপের পিঠে বসানো স্যাটেলাইটে ভারতের ফোন নাম্বার সাটানো ছিলো। সেই নাম্বারে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে ভারতের একটি সংস্থা গবেষণার জন্য এটি নদীতে ছাড়ে যা ভাসতে ভাসতে বাংলাদেশের জেলেদের জালে ধরা পড়ে। বর্তমানে এটি করমজল বাটাগুর বাসটা প্রজনন কেন্দ্রে রয়েছে। পরে এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।

এদিকে, প্রজনন কেন্দ্রের বাটাগুর বাস্কা প্রজেক্টের স্টেশন ম্যানেজার আ. রব বলেন, মূলত বিলুপ্ত প্রজাতির এ কচ্ছপের গতি ও আচরণবিধি, বিচরণ ক্ষেত্র, খাদ্যাভ্যাস এবং প্রজনন সম্পর্কে জানতে ভারতের টাইগার প্রজেক্ট গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সে দেশের সজনেখালী এলাকার কুলতলীতে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসানো ১০টি পুরুষ কচ্ছপ অবমুক্ত করে। ১১ দিনের মাথায় এর একটি নদী-সাগর পেরিয়ে বাংলাদেশের খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাটে চলে আসে।উদ্ধার কচ্ছপের পিঠে ভারতীয় স্যাটেলাইট

তিনি আরও জানান, এক সময়ে বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারে বাটাগুর বাস্কা প্রজাতির কচ্ছপের অস্তিত্ব ছিল। যা এখন বিলুপ্তির পথে। তবে, এসব দেশের উপকূলীয় এলাকায় দু’-একটির অস্তিত্ব রয়েছে। সেগুলো সংগ্রহ করেই এ গবেষণার কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিলুপ্ত প্রায় বাটাগুর বাস্কা প্রজাতির কচ্ছপ সংরক্ষণ, প্রজনন, গতি ও আচরণবিধি, বিচরণ ক্ষেত্র, পানিতে ডুবে ও ভেসে থাকার সময় নির্ণয়সহ নানা কার্যক্রম জানতে বাংলাদেশ বনবিভাগ, অস্ট্রিয়ার ভিজুয়েনা, আমেরিকার টিএসএ ও ঢাকার প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন যৌথভাবে কাজ করছে।




Leave a reply