স্বর্ণের বদলে তামা-পিতলেই বাড়ছে জনপ্রিয়তা, ক্রেতাদের ভিড় সাভারের ‘গহনা গ্রামে’

|

জনপ্রিয়তা পাচ্ছে স্বর্ণের বিকল্প তামা-পিতলের জুয়েলারি পণ্য। বাহারি ডিজাইনের এসব অলঙ্কারে বাড়ছে মানুষের ঝোঁক। এরই সূত্র ধরে ‘গহনা গ্রাম’ খ্যাত সাভারের ভাকুর্তা এলাকায় কম দামে দৃষ্টিনন্দন জুয়েলারি পণ্য কিনতে দূর-দূরান্ত থেকে ভিড় করছেন ক্রেতারা। তবে বাজারজাতকরণে সীমাবদ্ধতা এবং আর্থিক নানান সংকটে বাড়ছে না ব্যবসার পরিধি।

আগে স্বর্ণ ও রুপার গহনার জন্য প্রসিদ্ধ ছিল সাভারের ভাকুর্তা গ্রাম। তবে স্বর্ণের দাম বাড়ায়, সেই জায়গা এখন দখল করে নিয়েছে তামা এবং পিতল। গ্রামের দুই শতাধিক দোকানে এখন তৈরি হয় সীতাহার, কানের দুল, ঝুমকা, পায়েল, হাতের বালা, বাজুসহ হরেকরকম অলঙ্কার। দূর-দূরান্ত থেকে আসে ক্রেতাও।

তবে কাঁচামালের দাম বাড়ায় উৎপাদনে তৈরি হয়েছে সংকট। শ্রমিকদের পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রেও আছে অসন্তোষ। একেকজন শ্রমিক ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা কাজ করে পান ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। যা আয় হয়, তা দিয়ে জীবনধারণ করা কঠিন।

পুঁজির অভাবে একদিকে যেমন ব্যবসার সম্প্রসারণ হচ্ছে না, অন্যদিকে পণ্যের গুণগত মান উন্নয়নে প্রয়োজন প্রশিক্ষণ এখানকার শ্রমিকদের। সঠিক উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে শুধু দেশের বাজারই নয়, এসব অলঙ্কারের রফতানি বাজারও বড় করা সম্ভব।

পুঁজি সঙ্কটের ব্যপারে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমান বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে এসব ব্যবসায়ীদের সম্পর্কহীনতা এবং তাদের এই ব্যবসাকে ফর্মাল ব্যবসায় নিয়ে যাওয়ার জন্য যে কাঠামো তৈরি করা দরকার, সেগুলো নেই।

তবে আশ্বাস দিয়ে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমান বলেন, আমাদের নিজস্ব যে ক্রেডিট হোল সেলিং প্রোগাম আছে তার সাথে আমরাও সেখান থেকে এদেরকে যুক্ত করতে পারি। এই গ্রামকে ‘গহনা গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত করার জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবেও উদ্যোগ নেবো।




Leave a reply