যিনি প্রযুক্তির মাধ্যমে ইংলিশ লার্নিং এবং IELTS প্রিপারেশনে দেশে বিপ্লব সৃষ্টি করলেন !

|

আজ আমরা এমন একজন মানুষের সম্পর্কে জানবো যিনি বাংলাদেশে ইন্টারএকটিভ প্রযুক্তির মাধ্যমে অনলাইনে ইংলিশ শেখা এবং IELTS প্রিপারেশন নেয়ার বিপ্লব সৃষ্টি করেছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করে তারপর তিনি অনলাইন জগতে সফল বিজনেস প্রতিষ্ঠা করেন। লক্ষ টাকার চাকরি না করে আজ লক্ষ টাকার বিজনেস মডেল তাঁর হাতে। ফেইসবুকে গ্রুপসহ অন্যান্য নেটওয়ার্ক মেম্বার প্রায় ৫ লক্ষ। অনলাইনে তাঁদের কোর্সগুলো অনেক দামি। স্টুডেন্টরা ২০ হাজার টাকাও খরচ করছে তাদের কোর্সে। ২০২০ সাল থেকে ব্যাপকভাবে ইউটিউব মার্কেটিং এ যাচ্ছেন।
ব্যক্তিগত তথ্য থেকে জানা যায়, আইবিএ (ঢাবি) থেকে এমবিএ শেষ করেই তিনি বিজনেস ডেভেলপমেন্টে মনোনিবেশ করেন। এখন বয়স ৩৪ বছর। এই বয়সে যখন দেশের অন্য মেধাবীরা ৩০/৪০ হাজার টাকার বেতনের চাকরি করে বছরে ১০% ইনক্রিমেন্টের অপেক্ষা করে তখন তিনি নিজে লক্ষ টাকা রেভিনিউ মডেল তৈরী করছে এমন একটা বিজনেসের মালিক। সামনে যে যে প্রোডাক্ট মার্কেটে ছাড়বেন, তাতে তাঁর বর্তমান মডেলের পরিধি বাড়বে বহুগুন। সোজা কথায় যেটা বলা যায়, তাঁর বর্তমান সফলতায় পৌঁছতে প্রায় ৪৫ বছর লাগার কথা। কিন্তু তিনি ১০/১২ বছর আগেই সেটা করে ফেলেছেন। আজ সরাসরি কথা বলবো কবির স্যার বলে খ্যাত এই সফল উদ্যোক্তার সাথে।
স্যার, কেমন আছেন ?
“আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।”
একটা প্রশ্ন প্রথমেই করতে চাই। অনলাইনে এমন এক্সপেন্সিভ বিজনেস মডেল কিভাবে সফল করলেন ? আমরা অনলাইন বলতে তো বুঝি খরচ কম ?
“দেখুন, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট একটা বিশেষ দক্ষতা। সাথে মার্কেটিংও। আমাদের এই দুই দক্ষতা ছিল বলেই আজ সফল করতে পেরেছি।”
এখন বিশেষ করে কারা আপনাদের এখানে এডমিশন নেয় ?
“যারা চাকরি করেন। বাইরে গিয়ে ক্লাস করার সময় যাদের নেই। আর অনেক মেয়েরাও এখন অনলাইনই প্রেফার করছে।”
একটা বিষয় জানতে চাই। আইবিএ থেকে এমবিএ ডিগ্রি নিয়ে প্রেস্টিজিয়াস চাকরি না করে বিজনেস শুরু করার প্রেরণা কিভাবে পেলেন ?
“দেখুন, অনেক সময় না চাইতেও অনেক কিছু হয়ে যায়। আমরা আসলে কে কি করবো তা অনেকটাই নির্ধারিত। আমার সাথে যারা এমবিএ করেছে তারা রাত ১০ টাতেও অফিস থেকে বাসায় ফেরে। আর আমার এখন বাসা থেকে বের না হলেও চলে। আমার মনে হয় আগে এক সময় অনেক পরিশ্রম করতাম। পড়াশোনা করতাম। তাই এখন আল্লাহই এমন একটা ব্যবস্থা করে দিয়েছেন যেন অল্প বয়সেই একটু আরাম করতে পারি। আপনি নিশ্চয়ই এখন স্যালারির বিষয়টা আনবেন। আগেই বলে দিচ্ছি আমি তাদের যে কারো থেকে বেশি উপার্জন করি। এমন করে বললাম বলে এটা ভাবার কিছু নেই যে আমি শুধু আর্থিক বিষয়টাই দেখেছি। আর এখন আমি একটা ব্র্যান্ডের মালিক। একটা সফল কিছুর ওপর আজীবন নিজেই নিয়ন্ত্রণ করবো এমন একটা প্রেরণা থেকেই আসলে বিজনেসে আসা। আপনি এভাবে দেখুন, আমার এই বয়সে আমি একটি ব্র্যান্ডের মালিক। ঠিক এমন একটা অনুভূতি একদিন হবে, তাই বিজেনেসই শুরু করেছিলাম। তবে এই সময়ের মধ্যেই এমন একটা রেভিনিউ মডেল তৈরী করতে পারবো এমনটা আশা করি নি। আল্লাহ চেয়েছেন তাই হয়েছে। ”
যারা বিজনেসকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে চায় তাদের জন্য আপনার বক্তব্য কি ?
“দক্ষ হতে হবে। চাকরি করতে গেলে একটা বিশেষ দিকে দক্ষ হলেও চলে। কিন্তু বিজনেসে আসতে হলে অলরাউন্ডার হতে হবে। আর প্রথম দিকে অনেক পরিশ্রম করার মানুষিকতা থাকতে হবে। বিজনেসে সফলতার একটা বিশেষ মজা হলো স্বাধীনতা। দেখুন, আজ আমি চাইলেই ১৫ দিন দেশের বাইরে গিয়ে ঘুরে আসতে পারি। কিন্তু চাকরি করে এটা সম্ভব ? তবে এই পর্যায়ে আসতে যে ধরণের ত্যাগ স্বীকার করতে হয় তা আমাদের বেশিরভাগ মানুষেরই নাই। তাই তারা বিজনেসে আসতেও ভয় পায় । “
ইউটিউব চ্যানেল নিয়ে আপনাদের এখন কি পরিকল্পনা ?
“আমাদের প্রায় ১০০০ ভিডিও তৈরী হয়ে আছে। এগুলোর একেকটা বিশেষ উদ্দেশ্য আছে। এ নিয়ে কথা বললে দীর্ঘ সময় লাগবে। যখন প্রচার হবে তখন দেখতে পারবেন।”
শেষ একটা প্রশ্ন করতে চাই। আপনার সাথে যারা এমবিএ শেষ করেছেন তাদের সাথে আপনি আপনার অবস্থানের তুলনামূলক মূল্যায়ন কিভাবে করেন?
“দেখুন, আসলে আমরা কে কি করবো তা আল্লাহর ইচ্ছা। আর আমি একাডেমিক পড়াশোনার বাইরে অনেক বই পড়তাম। আসলে কতটা বই পাগল ছিলাম সেটা আমাকে গত ১৫ বছর দেখলে বুঝা যেতএ নিয়ে বলতে পারেন বাসায়ও অনেক কথা হতো। আমি এখন বুঝি আমি কেন এখন এই জায়গায় এসে এমন একটা প্লাটফর্মে কাজ করতে পারছি। এমবিতে আমার সহপাঠীরা এখন এসিস্টেন্ট ম্যানেজার স্টেজ এ আছে। আসলে একটা সফল বিজনেসের মালিক হওয়া কোনো জব এর কোনো পজিশনের সাথে তুলনা করা যায় না। বিজনেসের তুলনা বিজনেসের সাথেই হয়।”
আপনি গতবছর একটা ভিডিও ইন্টারিভউতে একটা বই এর কথা বলেছিলেন। যেটা প্রকাশ হলে দেশের ইংলিশে অনেক প্রভাব ফেলবে। সেটা কবে নাগাদ বাজারে আসবে ?
বইটা লেখা শেষ। প্রায় ৩ বছর লেগেছে। এখন এডিট চলছে। গত রোজার পর পরই প্রিন্ট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একটা বিশেষ কারণে আপাতত পাবলিকেশন বন্ধ রেখেছি। আশা করি খুব শীঘ্রই বাজারে আসবে।”
একটা শেষ প্রশ্ন। কোনো বড় ত্যাগ ছাড়া নাকি বড় কোনো অর্জন সম্ভব হয় না। আপনার ক্ষেত্রেও কি ব্যাপারটা সত্য? আপনার মাত্র ৩৩ প্লাস বয়সে এই রকম একটা অর্জন, সেজন্য প্রশ্নটা করলাম।
“অন্যদের কথা বলতে পারবো না, তবে আমার ক্ষেত্রে এটা ভীষণভাবে সত্য। এখানে কিছুটা ব্যক্তিগত বিষয় আছে যার কারণে আমি এই ব্যাপারে বেশি কিছু বলতে পারছি না।”
ঠিক আছে। তবুও আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আমাদের সময় দেয়ার জন্য।









Leave a reply