সাদা-তুষারের শহরটিতে থমকে গেল জীবন

|

তাদের কাছে প্রচণ্ড শীতেও শরীরে তাপ দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। ভবনের নিচের কারপার্কে তারা জড়োসড়ো হয়ে আতঙ্ক নিয়ে থাকছেন। তাদের ভবিষ্যৎ ও ভাগ্যে কী আছে; তা জানা নেই।

শহরের পাতাল রেলেও মানুষের ভিড়। রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আর বোমা থেকে বাঁচতে তারা সেখানে জড়ো হয়েছেন। এরপরেই নেমে এসেছে শীত। গত দুসপ্তাহে তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ওঠানামা করছে।

যুদ্ধের প্রথম পাঁচ দিনে পাঁচ হাজার ৭১০ রুশ সেনা নিহত হওয়ার দাবি করেছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। মঙ্গলবার (১ মার্চ) এক ফেসবুক পোস্টে দেশটির সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছে, ইতিমধ্যে দুই শতাধিক রুশ সেনাকে বন্দি করা হয়েছে।

এছাড়াও রাশিয়ার ১৯৮টি রুশ ট্যাংক, ২৯টি প্লেন, ৮৪৬টি সাঁজোয়া যান ও ২৯টি হেলিকপ্টার ধ্বংস করা হয়েছে।

তবে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। ইউক্রেনে আগ্রাসনের সময় রুশ বাহিনী ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

স্বাভাবিক সময়ে পুরনো কিয়েভের ছাদগুলোতে অকৃত্রিম সাদা তুষারে ঢেকে যাওয়া দেখে যে কারো চোখ জুড়িয়ে যেত। কিন্তু এখন সেই ইউক্রেনের রাজধানীতে মানুষের হতাশার তালিকা দীর্ঘ। রুশ আগ্রাসনে হাজার হাজার বাসিন্দা বাড়ির ভূগর্ভস্থ অংশ আশ্রয় নিয়েছেন।

এদিকে রোববার প্রথমবারের মতো যুদ্ধে নিজেদের ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করেছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। যদিও রুশ সেনাদের হতাহতের সঠিক সংখ্যা প্রকাশ তারা করেনি।

জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকরা বলছেন, লড়াইয়ের প্রথম দিনগুলোতে ৯৪ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এতে সেখানে মারাত্মক মানবিক সংকটের দেখা দিয়েছে। এছাড়া প্রাণহানির সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে।

এছাড়া রাশিয়ার সঙ্গে বৈঠকের আগে তাৎক্ষণিকভাবে রুশ সামরিক বাহিনীর প্রত্যাহার ও অস্ত্রবিরতি দাবি করেছে ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা। এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, তাদের প্রতিনিধিরা বর্তমানে ইউক্রেন-বেলারুশের সীমান্তে পৌঁছে গেছে।

প্রতিনিধিদের মধ্যে সাতজন উচ্চ পদমর্যাদার কর্মকর্তাও রয়েছেন। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিজে বৈঠকে উপস্থিত হননি।




Leave a reply