দুদিন আগেও স্বজনদের সঙ্গে কথা হয় হাদিসুরের

|

মো. হাদিসুর রহমান (৩২)। ইউক্রেনের অলিভিয়া বন্দরে আটকা পড়া বাংলাদেশের জাহাজ বাংলার সমৃদ্ধির থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ইউক্রেনে হামলা শুরু সপ্তম দিনে বাংলাদেশি জাহাজটিতে রকেট আঘাতের ঘটনা ঘটল। এতে বাকিরা নিরাপদে থাকলেও হাদিসুরের মৃত্যু হয়।

ইউক্রেনের বাংলাদেশি নাবিকের মৃত বাংলাদেশি নাবিকের বাড়ি বরগুনার বেতাগী উপজেলায় হোসনাবাদ ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামে। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমি থেকে লেখাপড়া করে ২০১৮ সালে বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার পদে যোগ দেন তিনি।

নিহত হাদিসুরের ছোটভাই মো. তারেক গণমাধ্যমকে জানান, মৃত্যুর আগেও হাদিসুর কথা বলেছেন। বাড়িতে এসে নতুন ঘরের নির্মাণকাজ করার কথাও জানিয়েছেন। কিন্তু বুধবার (২ মার্চ) স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ২০ মিনিটে অলভিয়া বন্দরে থাকা ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজের বাইরে অবস্থান করে ফোনে কথা বলছিলেন হাদিসুর। এসময় বিমান হামলার সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিহত হয়েছেন।

হাদিসুরের চাচা মাকসুদুর রহমান বলেন, ৬ মাস আগেও বাড়িতে এসেছিল তিনি হাদিসুর। তবে ইউক্রেনে আটকে পড়ার পর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল নিয়মিত। দুদিন আগেও (সোমবার) বাড়িতে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে হাদিসুর। জানান, জাহাজে তারা সবাই ভালো আছে। পরিবারের ইচ্ছে ছিল এবার বাড়িতে আসলে তাকে বিয়ে দেওয়ার। কিন্তু তার আগেই সব শেষ হয়ে গেল।

এদিকে ইউক্রেনে যুদ্ধের মধ্যে হাদিসুরের মরদেহ দেশে আনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন পরিবার। যুদ্ধের কারণে যেখান থেকে জাহাজই বের হতে পারছে না, সেখানে হাদিসুরের মরদেহ নিয়ে আসাটা আদৌ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সামরিক অভিযান ঘোষণার কয়েক মিনিট পরেই ইউক্রেনে বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে রুশ সেনারা। এরপর থেকে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ চলছে।




Leave a reply