বঙ্গবন্ধুর পরিকল্পনা অনুযায়ী জাতীয় পতাকার ডিজাইন করা হয়: প্রধানমন্ত্রী

|

আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলাদেশের পতাকার ডিজাইন করা হয়েছে।আজ বৃহস্পতিবার ৩ মার্চ সকালে ‘বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ’ প্রদান অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন তিনি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইয়াহিয়া খান তখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। ৭০ সালের ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন হয়। সমগ্র পাকিস্তানে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করে। সমগ্র পাকিস্তানে একজন বাঙালি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করবে এটা পাকিস্তানের তখনকার নেতা ভুট্টো সাহেব মানতেই পারেননি। কারণ তিনি পশ্চিম পাকিস্তানে মাত্র ৭০টা সিট পেয়েছেন। আর বাকি সব সিট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব পান। শুরু হয় ষড়যন্ত্র।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইয়াহিয়া খান মিলিটারি ডিকটেটর, আইয়ুবের পতনের পর সে ক্ষমতা দখল করে। ৩রা মার্চ সংসদ অধিবেশন ডাকা হয়েছিল। একটা বিষয় লক্ষণীয়, ডিসেম্বরে ইলেকশন হয়, জানুয়ারি মাস যায়, ফেব্রুয়ারি মাস যায় এরপর ৩রা মার্চ ডাকা হয় সংসদ অধিবেশন। পূর্ব পাকিস্তানে অর্থাৎ ঢাকায় হওয়ার কথা সেই অধিবেশন। পাকিস্তান থেকে অনেক সদস্যরাও চলে এসেছিলেন। কিন্তু ভুট্টো সাহেবের সেখানে আপত্তি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সে ঘোষণা দিয়েছিল, পশ্চিম পাকিস্তান থেকে কেউ যদি পূর্ব পাকিস্তানে আসে সংসদ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য তাহলে তাদেরকে খুন করে দেবে, হাত-পা ভেঙে দেবে এবং সমগ্র পাকিস্তানে ধর্মঘট ডাকবে, দোকান-পাট বন্ধ করে দেবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। ইয়াহিয়া খান তার সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে ভুট্টোর সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে সেই অধিবেশন বন্ধ করে দেন ১লা মার্চ। ১লা মার্চ স্টেডিয়ামে ক্রিকেট খেলা হচ্ছিল। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে থেকে সকল মানুষ রাস্তায় চলে আসে, সকল স্কুল, কলেজ, প্রতিষ্ঠান, অফিস, আদালত সবকিছু থেকে মানুষ রাস্তায় নেমে পরে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আর ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ছাত্র নেতারাও কিন্তু রাস্তায় নেমে পরে। আমরাও তখন ছাত্র ছিলাম। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আমাদের যারা সংসদ সদস্য, প্রাদেশিক পরিষদ এবং জাতীয় পরিষদের সদস্যদের শপথ পাঠ করান। সেই সঙ্গে তখন নিজেরা বৈঠক করেন। ইয়াহিয়া খানের ঘোষণার প্রতিবাদ করে ৭ই মার্চ তিনি ভাষণ দেবেন সেই ঘোষণাটা দেন। ৭ই মার্চের ভাষণ ঐতিহাসিক ভাষণ। যেখানে তিনি বলেছেন যে, কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না।

তিনি বলেন, ‘আর সেই ভাষণেই তিনি বলেছিলেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। যে ভাষণ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছিল। কাজেই এই দিনটিও আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে মার্চের প্রতিটি দিন, ৭১ এর মার্চের প্রতিটি দিন ছিল বাংলাদেশের জন্য একটা উত্তাল তরঙ্গের মতো। তখন সকলেই মুক্তির জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছিলেন।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবেরই পরিকল্পনা অনুযায়ী আমাদের জাতীয় পতাকার ডিজাইন করা হয়। এই পতাকার সঙ্গে জাপানের পতাকার মিল আছে। কারণ জাপান হচ্ছে উদিত সূর্যের দেশ। সাদার মধ্যে লাল। আর বাংলাদেশ সবুজ বাংলাদেশ। সেই সবুজের মাঝে লাল। এই পতাকার চিন্তাটা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের।’




Leave a reply