ইউক্রেনে হামলায় পুতিনের শহরে বিক্ষোভ

|

ইউক্রেনে আগ্রাসনের প্রতিবাদে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নিজ শহর সেন্ট পিটার্সবার্গে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জনগণ। বৃহস্পতিবার (০৩ মার্চ) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এর আগেও রুশরা যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ করেছিলেন। আগের মতো এবারও তাদের দাঙ্গা পুলিশের মুখোমুখি হতে হয়। পুলিশ বলপ্রয়োগ করে প্রতিবাদকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে। প্রতিবেদন মতে, এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে শতাধিক বিক্ষোভকারীকে পুলিশ আটক করেছে।

সম্প্রতি ক্রেমলিনের অন্যতম প্রধান সমালোচক ও সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনি সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিদিন প্রতিবাদসভার আহ্বান জানালে শত শত মানুষ বিক্ষোভে যোগ দেয়।

নাভালনি বলেন, রাশিয়া ভীতু ও কাপুরুষদের দেশে পরিণত হওয়া উচিত নয়। এদিকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সঙ্গে রাশিয়ার সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা।

তবে রাশিয়া কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যার সমাধান করতে চায় বলেও তিনি দাবি করেছেন। বুধবার আলজাজিরা টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন জাখারোভা।

ইউক্রেন সংকটে ন্যাটোর হস্তক্ষেপ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ন্যাটো জোট ইউক্রেন সংকটে সামরিক হস্তক্ষেপ করবে না বলে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে বোঝা যায় তাদের বুদ্ধিসুদ্ধি এখনো লোপ পায়নি।

এদিকে রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, মস্কো কিয়েভের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত রয়েছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা দেশগুলো যে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তার প্রতিক্রিয়ায় মস্কো পাশ্চাত্যের বিরুদ্ধে কঠোর, সুচিন্তিত ও সুস্পষ্ট জবাব দেবে।

এরপর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে হামলা চালানোর নির্দেশ দেন। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রুশ বাহিনী। ধ্বংস করে বিভিন্ন বিমানঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। হামলা থেকে বাঁচতে ইউক্রেন থেকে পালাচ্ছে লাখো মানুষ। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সেনারা।




Leave a reply