ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ: ৭ দিনের ঐতিহাসিক ঘটনা

|

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার সাতদিন পেরিয়ে গেছে। গত সাত দিনে বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং অন্যান্য প্রধান শহর রুশ সেনাদের হামলার শিকার হয়। প্রথমবারের মতো রাশিয়ার ওপর বড় ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য।

ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরের আবাসিক এলাকাগুলোতে রাশিয়ার বোমা হামলা জোরদার হয়েছে। ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ শহর খারসন দখল করেছে রাশিয়ার সৈন্যরা। সেখানকার মেয়র ইগর কোলিখায়েভ এ তথ্য জানিয়েছেন।

খারসন হচ্ছে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শহর যেটি রাশিয়ার সৈন্যরা দখল করে নিয়েছে। শহরের মেয়র জানিয়েছেন, রাশিয়ার সৈন্যরা সিটি কাউন্সিল ভবনে জোরপূর্বক প্রবেশ করেছে এবং বাসিন্দাদের ওপর কারফিউ জারি করেছে। বিবিসির যাচাই করা একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, খারসন শহরের কেন্দ্রস্থলে রাশিয়ার সৈন্যরা রয়েছে।

অন্যদিকে ইউক্রেনের বাহিনী বলছে, রাশিয়ার প্যারাট্রুপার খারকিভ শহরে নেমেছে। সেখানকার রাস্তায় ইউক্রেনের সৈন্যদের সঙ্গে রাশিয়ার সৈন্যদের লড়াই চলছে। মারিওপোল এবং খারকিভ শহর ঘিরে রেখেছে রাশিয়ার সৈন্যরা। মারিওপোল শহরের ডেপুটি মেয়র বলেছেন, শহরটিতে ১৫ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে একটানা বোমা বর্ষণ করা হয়েছে। ফলে সেখান পরিস্থিতি এখন মানবিক বিপর্যয়ের কাছাকাছি।

একটি আবাসিক অঞ্চলে কয়েকশ’ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে ডেপুটি মেয়র আশঙ্কা করছেন। নিহতদের মধ্যে তার বাবাও রয়েছেন।

গত কয়েক ঘণ্টায় ব্যাপক বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে রাজধানী কিয়েভ এবং আরও কিছু শহর। বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে বিশাল অগ্নিকুণ্ডে শহরের আকাশ জ্বলে উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা বলছে, রাশিয়ার ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ সামরিক বহর কিয়েভ শহরের কাছাকাছি আসার পর অনেকটা থমকে আছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এ সামরিক বহরে খাদ্য এবং জ্বালানির সংকট দেখা দিয়েছে।

এই প্রথমবারের মতো রাশিয়া স্বীকার করেছে, ইউক্রেনে হামলা শুরুর পর থেকে তাদের ৪৯৮ জন সৈন্য নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও ১ হাজার ৫৯৭ জন আহত হয়েছেন।

জাতিসংঘ বলছে, রাশিয়ার হামলা শুরুর পর থেকে ইউক্রেন ছেড়ে প্রায় ১০ লাখ মানুষ পালিয়েছে। এ সংখ্যা দ্রুত আরও বাড়ছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ তদন্ত শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।

প্রায় দুই মাস ধরে ইউক্রেন সীমান্তে প্রায় ২ লাখ সেনা জড়ো করে রাশিয়া। রাশিয়ার সেনা মোতায়েন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো বারবার সতর্কতা দিয়েছিল। কিন্তু বরাবরই ইউক্রেনে হামলা চালানোর আশঙ্কা উড়িয়ে দেয় রাশিয়া। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে হামলা চালানোর নির্দেশ দেন।




Leave a reply