টাকার অভাবে স্ত্রীর লাশ কাঁধে করে হেঁটে যাওয়া হতদরিদ্র দানা মাঝি এখন বিরাট ধনী

|

দানা মাঝি

স্ত্রীর লাশ কাঁধে নিয়ে হেঁটে যাওয়া দানা মাঝিকে হয়তো অনেকেই ভুলতে বসেছেন। ভুলে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। প্রযুক্তির কল্যাণে হাজার হাজার ভাইরাল খবরের ভিড়ে এরকম একটা খবর আর কতদিনই বা টিকে থাকতে পারে। তবে মূল ঘটনার তিন বছর পর ফের আলোচনায় এসেছেন হতদরিদ্র অসহায় স্বামী দানা মাঝি।

২০১৬ সালের আগস্ট মাসে গোটা ভারতজুড়ে সাড়া ফেলেছিলো একটি মর্মান্তিক ট্র্যাজিডি। সবার মুখে মুখে শোনা যাচ্ছিলো সেই কাহিনী। দেশ ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলো দানা মাঝির অসহায়ত্ব।

ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যের কালাহান্ডি জেলার বাসিন্দা তিন সন্তানের পিতা দানা মাঝি সেইদিন স্ত্রীকে হারিয়েছিলেন। দূর্ভাগ্যের শেষ হয়নি তখনো। হাসপাতাল থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে নিজ বাড়িতে স্ত্রীর লাশ নিয়ে যাওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্যও ছিলো না তার। কারুর কাছে হাত পাতার মতো মানসিকতাও ছিলো না। তাই বাধ্য হয়ে স্ত্রীর লাশ কাঁধে নিয়েই বাড়ির পথে রওনা হোন তিনি।

স্ত্রীর লাশ কাঁধে করে নিয়ে যাওয়ার ছবি এবং ভিডিও মুহুর্তের মধ্যেই বিশ্বব্যাপী ভাইরাল হয়ে যায়। ১০ কিলোমিটার যাওয়ার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছ থেকে খবর পেয়ে জেলা প্রশাসন লাশবহনকারী গাড়ির ব্যবস্থা করে।

দানা মাঝির এই হৃদয় বিদারক কাহিনী শুনে বহু মানুষের চোখের কোণে জল জমা হয়েছিলো অগোচরে। কিন্তু ঘটনার কিছুদিন পরেই মানুষ ক্রমেই তাকে ভুলতে শুরু করে। সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যম তার বর্তমান অবস্থা নিয়ে একটি রিপোর্ট করে। সেই রিপোর্টে উঠে আসে এমন চমকপ্রদ তথ্য।

তার ব্যাংক একাউন্টে বর্তমানে জমা আছে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা। দানা মাঝি তিন মেয়েকেই ভুবেনশ্বরের নামী-দামী স্কুলে ভর্তি করেছেন।

এমন ট্র্যাজিডির পর অনেক ধনাঢ্য ব্যক্তি এবং সংস্থা তার পাশে দাঁড়ায়। বাহরাইনের প্রধানমন্ত্রী নিজেই তাকে ৯ লক্ষ টাকার চেক প্রদান করেন। এছাড়া উড়িষ্যা সরকার নিজস্ব অর্থায়নে তাকে একটি বাড়ি নির্মাণ করে দেয়। আর তার মেয়েদের শিক্ষার সমস্ত দায়িত্ব নেয় কলিঙ্গ ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ সোশ্যাল সাইন্স।

কিছুদিন আগে নতুন বিয়েও করেছেন দানা মাঝি।








Leave a reply