নিজের অজান্তেই আপনার শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে না তো!

|

child abuse

বর্তমানে আমরা এমন এক সমাজে বাস করি যেখানে, মানুষের ফাঁক গলে রয়ে যায় কয়েকটি নরপশু। তাদের লিপ্সা এতটাই প্রকট হয়ে উঠে যে একটি শিশুকেও নির্যাতন করতে একটুও খারাপ লাগে না তাদের! একদম সামান্য কয়েকটি কাজ যদি আমরা নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করে ফেলি তাহলে আমরা খুব সহজেই শিশু নির্যাতন রোধ করে ফেলতে পারব। নিম্ন বর্ণীত উপায়গুলো মেনে চলতে পারলে, মায়েরা বেশ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবেনঃ

  • নিশ্চিত করুন আপনি বাইরে যাওয়ার সময় আপনার শিশুকে কোন নিরাপদ ব্যাক্তির দায়িত্বে দিয়ে যাচ্ছেন।
  • আপনার স্বামী ও তাঁর পরিবার যদি আপনার সন্তানের দেখভাল করে থাকেন তাহলে কোন প্রতিবেশী বা সাহায্যকর্মীর কাছে একমিনিটের জন্য-ও যেন সন্তানকে একা না রাখেন,এ ব্যাপারে তাদের সতর্ক করুন।
  • যদি আপনার সন্তানকে ডে-কেয়ারে দিতে হয় তাহলে নিশ্চিত করুন আপনি যাতে অফিসে বসে তাদের ভিডিও পর্বেক্ষণ করার সুযোগ পান।
  • কখনো কখনো ডে-কেয়ারে না জানিয়ে উপস্থিত হন,যাতে আপনার অবর্তমানে তারা আপনার সন্তানের সাথে কি ব্যবহার করেন তার ব্যাপারে ধারণা পান।
  • যদি আপনার সন্তান ভালো ও খারাপ স্পর্শ বুঝে থাকে তবে তাকে পরিস্কার ও খোলামলাভাবে  বুঝান ও উৎসাহিত করুন যাতে এমন আচরণ কেউ তার সাথে করলে যেন আপনাকে জানানো হয়।
  • আপনার ও আপনার স্বামী ছাড়া আর কোন ব্যাক্তিকে আপনার সন্তানের নিরাপত্তার বিষয়ে বিশ্বাস করবেন না।
  •  আপনার সন্তানকে জড়িয়ে ধরা ও অতিরিক্ত আদর করা থেকে চাচা,মামা,কাকা বা জ্ঞাতিভাই-বোনদের বিরত রাখুন। যেকোন অজুহাতে আপনার সন্তানকে সরিয়ে নিন এবং তাদের সাথে একা ছাড়বেন না।
  • আপনার সঙ্গীকে সন্তানের সামনে অতিরিক্ত ভালবাসা দেখানো থেকে বিরত থাকুন কেননা এতে সন্তানদের মধ্যে এই ব্যাপারগুলো “স্বাভাবিক” হিসেবে বিবেচিত হয়।
  •  আপনার সন্তানদের তাদের গোপনাঙ্গের ব্যাপারে বলুন এবং টয়লেট ব্যবহারে গোপনীয়তা মেনে চলতে বলুন।
  • আপনার সন্তানকে কার্টুন বা শিশুদের জন্য নির্মিত অনুষ্ঠান দেখতে উৎসাহিত করুন। তাদের রোমান্টিক চলচ্চিত্র দেখতে দিবেন না।
  • আপনার সন্তানের শক্তি হন এবং যতটুকু সম্ভব তাকে নিরাপত্তা প্রদান করুন যাতে কোন কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটলে আপনার সন্তান আপনাকে জানাতে ভয় না পায়।
  • “পেডোফিলিয়া” সনাক্ত করার চেষ্টা করুন। আপনার চারপাশের পরিচিত থেকে অপরিচিত যে কোন ব্যাক্তি এতে আক্রান্ত হতে পারেন। তারা সাধারণত খুব আন্তরিক,বন্ধুত্বপরায়ণ ও শিশুদের নিকট প্রিয় হয় তাদের প্রতি ভালবাসা,স্নেহবর্ষণ ও উপহার প্রদানের মাধ্যমে।
  • আপনার সন্তানকে সকলের থেকে আলাদা করে ছাদ,বাগান বা কোন একলা রুমে খেলতে পাঠাবেন না।
  • আপনার সন্তানকে অন্য কারো সাথে একা কিছু  কিনতে বা মুভি দেখতে পাঠাবেন না।
  • নিশ্চিত করুন আপনার সন্তান যেন রোজকার ভালো ও মন্দ ঘটনা আপনার সাথে ভাগ করে নিতে পারে।
  • আপনার মনের অভ্যন্তরীণ ডাক শুনুন। ঈশ্বর প্রতিটি মায়ের মধ্যে এই ক্ষমতা দিয়েছেন যা আপনাকে আপনার সন্তানের বিপদ আশংকায় সতর্ক করে।
  • আপনার সন্তানকে অবলোকন করুন। তারা যখন কারো সাথে যেতে চায় না তখন তাদের জোর করবেন না। তাদের শুনুন ও বিশ্বাস করুন,যাই বলুক।

সকল সন্তানের-ই নিরাপত্তা কাম্য। এই পৃথিবী তাদের জন্য নিরাপদ না হলেও সেভাবে গড়ে তুলতে আমাদের সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া উচিত। তারা কোন নির্যাতনের স্বীকার হলে তাদের জানান,এটা তাদের ভুল নয় এবং যাই হোক আপনি তাদের পাশে আছেন। কেননা এই বিশ্বের সকল সমস্যা ভালবাসা দিয়ে দূর করা সম্ভব।








Leave a reply