পরিবেশ দূষণ রোধে যেসব কাজ করা জরুরি

|

প্রতিনিয়ত বাড়ছে পরিবেশ দূষণের মাত্রা। একটু বুকভরে শ্বাস নেওয়ারও যেন জায়গা নেই। সকাল শুরু গাড়ির কালো ধোঁয়ায়। সারাদিন ধুলোবালি সঙ্গী। খাবারে রাসায়নিক, বাস্তুতন্ত্রের ব্যাঘাত, বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ- সব মিলিয়ে ভারসাম্য হারাচ্ছে পরিবেশ। তাই পরিবেশকে রক্ষায় আমাদের সকলের জন্য জরুরি কিছু করণীয়—

ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবহার কমানো
জীবনকে সহজ করতে ইলেকট্রনিক পণ্যের বিকল্প নেই। কিন্তু পরিবেশের কথা চিন্তা করে এর ব্যবহার কমান। এতে বিদ্যুৎ শক্তি বাঁচাতে পারবেন। এমন পণ্য ব্যবহার করুন যা পরিবেশবান্ধব। অকারণে লাইট, পাখা, টিভি, এসির সুইচ জ্বালিয়ে রাখবেন না। ছোটোখাটো কাজের জন্য সোলার পাওয়ার ব্যবহার করতে পারেন।

চুলায় কাঠের ব্যবহার কমানো
চুলার কাঠ থেকে অত্যধিক পরিমাণে ধোঁয়া নির্গত হয়। যা বাতাসে মিশে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। তাই কাঠের চুলার ব্যবহার কম করার চেষ্টা করুন।

পরিবেশবান্ধব যানবাহনের সংখ্যা বাড়ানো
গাড়ি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া বায়ু দূষণ করে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে গাড়ির সংখ্যা। সঙ্গে বাড়ছে দূষণও। তাই দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশবান্ধব যানবাহন ব্যবহার করুন। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো উদাহরণ- সাইকেল। কর্মক্ষেত্র ও ছোট দূরত্ব পার হতে ভরসা রাখুন দুই চাকার এই যানে। এতে শরীরও ভালো থাকবে, পরিবেশের উপকার হবে।

বাস্তুতন্ত্র সুস্থ রাখা
বায়ু দূষণে প্রভাবিত হচ্ছে বাস্তুতন্ত্র। যার প্রভাব গাছপালা, পশুপাখির ওপর। একটি সুস্থ পরিবেশে গাছপালা ও পশুপাখির সঙ্গে বাস্তুতন্ত্রের যোগাযোগ স্থাপন জরুরি। তাই এই বিষয়ে গুরুত্ব দিন।

কীটনাশক ও কেমিক্যালের ব্যবহার কমান
ঘরবাড়ি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে কেমিক্যালযুক্ত সামগ্রীর ব্যবহার কমান। এর পরিবর্তে ব্যবহার করতে পারেন বেকিং সোডা, ভিনেগার ও লেবুর মিশ্রণ। বাজারে প্রথাগত ও পরিবেশবান্ধব নানান সামগ্রী পাওয়া যায়। সেগুলো ব্যবহার করুন। একই সঙ্গে কমাতে হবে কীটনাশকের ব্যবহার।

বর্জ্য পদার্থ রিসাইকেল করা
কাঁচ, প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম বা খবরের কাগজ ফেলে দেওয়ার পরিবর্তে রিসাইকেল করতে পারেন। এতে আবর্জনা জমে দূষণ ছড়াবে না। এমনকি এই বর্জ্যগুলো পোড়ানোর ফলে নির্গত ধোঁয়া পরিবেশের ক্ষতি করতে পারবে না। তাই এসব না ফেলে পুনর্ব্যবহার যোগ্য করে তুলুন। এই যেমন, কাচের বোতল দিয়ে বানিয়ে ফেলতে পারেন ফুলদানি।

কার্বন ফুটপ্রিন্টের ব্যবহার কমানো
বায়ু দূষণের অন্যতম বড় কারণ কার্বন ফুটপ্রিন্ট বৃদ্ধি। বাড়িতে ওয়াটার হিটার থাকলে তার টেম্পারেচার কমিয়ে দিন। ডিশওয়াশারে থালা-বাসন না ধুয়ে হাত দিয়ে বাসন পরিষ্কার করুন। প্রয়োজন ছাড়া এয়ার কন্ডিশনারের ব্যবহার না করাই ভালো।

স্থানীয় এলাকায় ফল ও সবজি উৎপাদন বৃদ্ধি
বাড়ির ছাদ বা স্থানীয় এলাকাতে ফল আর সবজি চাষ বাড়াতে হবে। এতে সবজি পরিবহন করা গাড়ির যাতায়াত কম হবে। দীর্ঘ সময় খাবার সংরক্ষণ করা লাগবে না। ফলে কীটনাশক ও প্রিসারভেটিভের ব্যবহারও কম করা যাবে। এই প্রিসারভেটিভগুলো সরাসরি বায়ু দূষণ ঘটায়।

এসবের পাশাপাশি নির্দিষ্ট স্থানে আবর্জনা ফেলার অভ্যাস করুন। পরের দিকে না তাকিয়ে পরিবেশ ভালো রাখতে নিজেও ভূমিকা রাখুন। এতে সুস্থভাবে দীর্ঘদিন বাঁচতে পারবেন।




Leave a reply