রাশিয়ার আক্রমণের পরই বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

|

প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের ঘোষণার পর পরই তেলের দাম ৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। বর্তমানে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার। যা গত সাত বছরে সর্বোচ্চ। একই কারণে বিশ্বব্যাপী শেয়ারের দর এবং সূচকের পতন অব্যাহত রয়েছে। সেই সঙ্গে বাড়তে পারে সোনার দামও।

কয়েকদিন আগে রাশিয়া শান্তি চুক্তি বাতিল করে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহী-অধ্যুষিত এলাকায় সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তখন তেলের দাম ৯৮ ডলার হয়েছিল। বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ইউরোপে আগাম কেনাবেচায় ব্যারেল প্রতি ব্রেন্ট ক্রুড জ্বালানি তেলের দাম ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১০২ দশমিক ৩২ ডলারে উঠেছে। এটি ২০১৪ সালের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ দাম।

তেলের সঙ্গে সঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণত নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণকে ধরা হয়। স্বর্ণের দামও ১ দশমিক ৮২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিবিসি জানায়, ইউক্রেনের দুটি অঞ্চলকে রাশিয়া স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তারপর বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পুতিন আনুষ্ঠানিকভাবে ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন।

বিশ্বে সৌদি আরবের পরে রাশিয়া হচ্ছে দ্বিতীয় অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ। এ ছাড়া বিশ্বে প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনেও শীর্ষে রাশিয়া। এর আগে গত মঙ্গলবার তেলের দাম গত সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল। মঙ্গলবার তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ৯৮ মার্কিন ডলার।

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে বিশ্বে অপরিশোধিত তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনে জাহাজ ও অন্যান্য যানবাহনে পরিবহন খরচ বেশি। রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে তা আরো বৃদ্ধি পাবে।

শীঘ্রই ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি নতুনভাবে শুরুর পরিকল্পনা করছে পশ্চিমা মিত্ররা। কারণ আপাতত রাশিয়া থেকে তেল সরবরাহে কিছুটা প্রতিবন্ধকতা থাকবে। ফলে, বাজারে তেলের দাম সহনীয় রাখতে ইরানের সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব চুক্তিটি করতে আগ্রহী পশ্চিমারা। চুক্তিটি হলে ইরান থেকে ১ মিলিয়নের বেশি অপরোশোধিত তেল বাজারে আসবে। তখন কিছুটা হলেও তেলের দামে লাগাম ধরা যাবে।




Leave a reply