ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ: যেভাবে সবকিছু ভেঙে পড়ল

|

কেন ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান? কেন এই প্রেক্ষাপট তৈরি হলো, কারা দায়ী, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ: যেভাবে সবকিছু ভেঙে পড়ল

অবশেষে আশঙ্কাই সত্যি হলো। কয়েক সপ্তাহের টান টান উত্তেজনার পর ইউক্রেন ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান চালালো রাশিয়া।

ইউক্রেনকে ঘিরে এই সংঘাতের শুরু কখন থেকে? সাম্প্রতিক ইতিহাস বলছে, ২০১৪ সালে ক্রিমিয়াকে কেন্দ্র করেই নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে। সেসময় ক্রিমিয়াকে দখল করে নেয় রাশিয়া।

যখন আলাদা হলো তারপর থেকেই ইউক্রেনে দুই মতাদর্শের রাজনৈতিক দল বিদ্যমান। একদিকে রুশপন্থি, অন্যদিকে পশ্চিমাপন্থি।

একটি অংশ চায় রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল থাকতে। কেননা ইউক্রেনের জনসংখ্যার বেশিরভাগই রুশ ভাষাভাষী। অপরদিকে, অন্য অংশ চায় পশ্চিমাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে। একইসঙ্গে নিজেদের প্রতিরক্ষা জোরদার করতে ন্যাটো বলয়ে যোগ দিতে।

দুই দেশের মধ্যে তিক্ততা শুরু হয় ২০১৪ সালে। যখন রুশপন্থি প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচকে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। এরপর ইউক্রেনের শাসকদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে পুতিনের। সেসময় ইউক্রেনের সব বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সমর্থন দেয় রাশিয়া। হাতে চলে আসে ক্রিমিয়া।

রাশিয়া কোনোভাবেই চায় না ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগ দিক। এরপরও গেল কয়েকবছর ধরেই ন্যাটোতে যোগ দিতে পশ্চিমা বিশ্বের ঘনিষ্ঠ হতে থাকে ইউক্রেন। আর এতে যুক্তরাষ্ট্র বেশি আগ্রহ দেখানোয় ক্ষীপ্ত হয় রাশিয়া। এরই অংশ হিসেবে গেল মাসে মহড়ার কথা বলে ইউক্রেন সীমান্তে হাজারো সেনা জড়ো করতে শুরু করে রাশিয়া।

পশ্চিমারা যেকোনো সময় যুদ্ধের কথা বললেও বারবার তা অস্বীকার করে রাশিয়া। উল্টো পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি পুতিন আহ্বান জানান যেন ইউক্রেনকে কোনোভাবেই ন্যাটোর সদস্য করা না হয়। মস্কোর উদ্বেগ, ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগ দিলে তাদের সীমান্তের কাছে চলে আসবে পশ্চিমারা। যা নিজেদের নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটাবে বলে মনে করে রাশিয়া।

পুতিনের দাবি নিয়ে দফায় দফায় কূটনৈতিক আলোচনা চালায় ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়াও চেয়েছিল কূটনৈতিকভাবেই সংকটের সমাধান করতে। কিন্তু দাবি পূরণে ব্যর্থ হয় যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপীয় দেশগুলো। উল্টো যুদ্ধ শুরু করলে ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি দেয় তারা। সংকট সমাধানে কোনো পক্ষই সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত সংঘাতে রূপ নিলো রুশ-ইউক্রেন চলমান উত্তেজনা।




Leave a reply