টয়ার মুখরিত জীবন

|

করোনাকালে নিউ নরমাল জীবনধারায় শুটিংয়ে ফিরেছেন অভিনয়শিল্পীরা। লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের মুখরিত জীবনে মুমতাহিনা টয়াও ব্যস্ত। অবশ্য কুরবানি ঈদের আগে যখন লকডাউন শিথিল হয়, তখনই নাটকের শুটিংয়ে ফেরেন এই অভিনেত্রী।

নিউ নরমাল সময়ে কাজকর্ম কীভাবে চলছে, শুটিং স্পটের পরিস্থিতি কী?

সেই অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে টয়া বলেন, ‘কাজ করাটা এখন একটু কঠিন হয়ে গেছে। আগে যেভাবে যেখানে ইচ্ছে গিয়ে আমরা শুট করতে পারতাম, এখন সেভাবে আসলে আমরা পারি না। সবাই যেহেতু নিজ নিজ বেলায় একটু সচেতন থাকে, তাই কাজের প্রসেসটা দীর্ঘ হয়ে যায়। আমরা কাজ শুরু করেছি ঠিকই, কিন্তু আগে যেমন ইউনিট থেকে পুরো সাপোর্ট পেতাম; এখন করোনার কারণে বিভিন্ন দিক থেকে আমাদের বাজেটও কমে যাচ্ছে।’

বেশকিছু নতুন নাটকের কাজ ইতোমধ্যে শেষ করেছেন টয়া। নাট্যনির্মাতা হাসিব খানের ‘কয়েন’ ও আরো একটি নাটকে কাজ করার কথা জানিয়েছেন তিনি। নাটক দুটিতে টয়ার বিপরীতে রয়েছেন অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব। এছাড়া মোহন আহমেদের একটি সিঙ্গেল নাটকে পুরান ঢাকায় শুটিং করছেন টয়া ও মিশু সাব্বির। নতুন সিরিয়ালে কাজের কথাও চলছে। কখনো নাটকে অভিনয়, কখনো নিজের ইউটিউব চ্যানেলের কনটেন্ট বানানো, কখনোবা রিয়েলিটি শোর সঞ্চালনা এভাবেই কাটছে টয়ার কর্মময় ব্যস্ততা।

অভিনয়ের ফাঁকে ফাঁকে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করতে কেমন লাগে?

টয়ার সহজ স্বীকারোক্তি, ‘আমি ভীষণ এনজয় করি।’ তারপর বললেন, ‘আগে এতবেশি ভালো লাগত না, এখন যতখানি ভালো লাগে। উপস্থাপনায় যদি কাউকে ইন্টারভিউ করে থাকি, তবে ওই মানুষটি সম্পর্কে জানা যায়। কাজের ক্ষেত্রে যখন কারো সঙ্গে দেখা হয় তখন তার সঙ্গে কাজ নিয়েই কথা বলি। কিন্তু উপস্থাপনায় একটা মানুষকে আরো আলাদাভাবে বিস্তারিত জানা যায়। আর অপরিচিত হলে তো নতুন মানুষটা সম্পর্কে জানা।’

যদি অভিনেত্রী না হতেন, তবে কোনো পেশায় পাওয়া যেত তাকে?

এ প্রশ্নের জবাবে টয়া জানান, বিবিএ শেষে তিনি একজন করপোরেট মানুষ হতেন। হয়তো তিনি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির একজন চাকরিজীবী হতেন। কিন্তু সে পথে আর এগোনো হয়নি।

শোবিজ অঙ্গনে আসার ইচ্ছে এবং ছোটবেলা সম্পর্কে টয়া বলেন, ‘ছোটবেলায় টিভিতে যখন তারকাদের দেখতাম তখন জানতে ইচ্ছে হতো তারা কীভাবে কাজ করছে। তারপর পত্রিকায় যখন তারকাদের ঢং-ঢাং করে ছবি দেখতাম তখন নিজেরও ইচ্ছে হতো। কখনো ভাবিনি ভবিষ্যতে আমিও এভাবে ছবি তুলব, আমার ছবিও পেপারে ছাপবে। এটা একেবারেই ভাবনায় ছিল না। হঠাৎ করেই মিডিয়াই চলে আসা।’

২০১০ সালে লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার দিয়ে ধীরে ধীরে মিডিয়া জগতে টয়ার পদচারণা শুরু। সেখান থেকে মডেলিং, নাটকে অভিনয়। মিডিয়া অঙ্গনে আজীবন থাকার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন টয়া। গত ফেব্রুয়ারিতে অভিনেতা শাওনের সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। দুজনে ভালোই চলছে সংসার জীবন।

অবসরে কীভাবে সময় কাটে এ অভিনেত্রীর?

টয়া বলেন, ‘হাজব্যান্ড আর ফ্যামিলির সঙ্গে সময় কাটে। এই করোনা আমাকে এটা উপলব্ধি করিয়েছে যে, ফ্যামিলির বাইরে আসলে কিছুই নেই। আমরা সাধারণত একটা কিছু উপলক্ষ হলেই বাইরে বন্ধুদের সঙ্গে সেলিব্রেট করতে চলে যাই। বন্ধুরা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু নিজের ফ্যামিলির সদস্যরা আরো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কাছের কেউ যদি মারা যান, তবে বুঝা যায় যে আমরা কাকে হারিয়েছি। তাই মনেহল যত বেশি সম্ভব অবসর সময়টুকু বাসার মানুষের সঙ্গেই কাটাই।’

বই পড়েন না?

এমন প্রশ্নে টয়া জানান, বইপড়ার চেয়ে ভিডিও বা ফিল্ম দেখতেই বেশি ভালো লাগে তার। চোখে দেখে আর কানে শুনে কোনো ভিজ্যুয়ালে ডুবে থাকতে পছন্দ করেন টয়া। এছাড়া বাংলাদেশের নাটক ও সিনেমার কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নিঃসন্দেহে আমাদের দেশে এখন ভালো ভালো নাটকে কাজ হচ্ছে। এমনকি সিনেমা থেকেও বেশ ভালো কাজ হচ্ছে নাটকে।’

উল্লেখ্য, বর্তমানে এনটিভিতে টয়া অভিনীত হাবিব শাকিলের ধারাবাহিক ‘পরের মেয়ে’। এছাড়া ২০১৮ সালে ‘বাঙালি বিউটি’ নামক একটি সিনেমাতেও কাজ করেছেন টয়া।








Leave a reply