পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে ইমরান খান, ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি

|

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র যখন বৃষ্টির মতো ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে আঘাত হানছে, তখন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।
ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি, পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে ইমরান খান

এ সময়ে দুদেশের অর্থনৈতিক প্রকল্প ছাড়াও পাকিস্তানের স্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইনের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।

এক বিবৃতিতে ক্রেমলিন জানিয়েছে, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে দুই নেতা কথা বলেছেন। এ সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন ঘটনাবলীয়সহ আঞ্চলিক ইস্যু নিয়ে তারা মতবিনিময় করেন।

এদিকে ইমরান খানের কার্যালয় জানিয়েছে, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দুই নেতা কথা বলেন। বৈঠকে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাদের মধ্যে ফোনে কথোপকথনের কথাও স্মরণ করা হয়েছে।

রাশিয়ার সঙ্গে বহুপক্ষীয় ও বৈচিত্র্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে পাকিস্তানের অঙ্গীকারের কথাও জানিয়েছেন ইমরান খান। তিনি বলেন, একটি স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ আফগানিস্তানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করবে পাকিস্তান। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে রাশিয়ার সহযোগিতার কথাও স্মরণ করেন পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়াও অধিকৃত কাশ্মীরে ভারতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টিও আলোকপাত করেন তিনি। ইমরান খান বলেন, কাশ্মীর সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান প্রয়োজন।

এসময়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার পরিস্থিতি নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করে তিনি বলেন, কূটনীতিই কেবল সামরিক সংঘাতকে এড়িয়ে যেতে পারে। সংঘাতে কারো আগ্রহ থাকতে পারে না। সহিংসতার ঘটনায় উন্নয়নশীল দেশগুলোই বেশি আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছে। সংলাপ ও কূটনৈতিকভাবে এই সংকটের সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে ইউক্রেনে রাশিয়া ১৬০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের এক কর্মকর্তার বরাতে সিএনএন এমন দাবি করেছে। তিনি বলেন, অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র স্বল্প-পাল্লার। এছাড়া মাঝারি-পাল্লার ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও চালিয়েছে রাশিয়া।

ইউক্রেনঘিরে ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি বইছে। আর তিন দিক থেকে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়ছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোনো ইউরোপীয় দেশে স্থল, সাগর ও বিমানপথে সবচেয়ে বড় হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে লাখ লাখ লোক তাদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার ভোর হওয়ার আগে যুদ্ধের ঘোষণা দিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এতে ৩০ লাখ জনসংখ্যার কিয়েভে সকালেই বিস্ফোরণ ও বন্দুকযুদ্ধের শব্দে নাগরিকদের ঘুম ভেঙেছে।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, এটি পূর্ব পরিকল্পিত হামলা। রাশিয়ার বিরুদ্ধে তিনি নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, পুতিন একজন আগ্রাসনকারী। এই যুদ্ধ তিনি ডেকে এনেছেন। এখন তিনি ও তার দেশকে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে।




Leave a reply