সাদা স্রাব হওয়া ভালো? শরীরে অজান্তেই বাঁধছে না তো বড় রোগ? উত্তর দিলেন ডা: তসনিম জারা

|

টিনএজ তরুণী থেকে শুরু করে মধ্যবয়স্ক মহিলা- স্রাব বা সাদা স্রাবের সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। শরীরে কোনও ভয়াবহ রোগ বাসা বাধার কারণেই কি স্রাবের সমস্যায় ভুগছেন? কীভাবে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন? এই যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর দিলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় চিকিৎসক ডা: তসনিম জারা।

সাদা স্রাব আদতে শরীরে জন্য ভালো, অনেকেই হয়তো এই তথ্য শুনে অবাক হবেন। কিন্তু, এমনটাই জানিয়েছেন তসনিম। তবে তা অবশ্যই নির্দিষ্ট পরিমাণে। ঠিক কী বলেছেন তসনিম? এই চিকিৎসকের কথায়, “স্বাভাবিক সাদা স্রাব কিছুটা ঘন হতে পারে, আবার কিছুটা পাতলা হতে পারে। একদম দুধ বা জলের মতো পাতলা হতে পারে, আবার ডিমের সাদা অংশের মতো কিছুটা জেলির মতো হতে পারে।”

স্বাভাবিক সাদা স্রাবের রং কেমন হবে? দিনে কতটা স্রাব স্বাভাবিক?

এই চিকিৎসকের কথায়, “ দুই থেকে পাঁচ মিলিলিটার বা দুই থেকে পাঁচ এম এল এর থেকে একটু বেশি স্রাব হলে তা স্বাভাবিক। স্রাব একেক জনের একেক রকম হতে পারে। আপনার জন্য যা স্বাভাবিক, অন্যের জন্য তা স্বাভাবিক নাও হতে পারে।”

সাদা স্রাব বন্ধ করবেন কীভাবে?

তসনিম জানাচ্ছেন, অনেকেই হয়তো জানেন না সাদা স্রাব উপকারি। স্রাবের দুটি উপকারের কথা বলেছেন তিনি। প্রথমত, ঋতুস্রাবের আগে যোনিপথ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। দ্বিতীয়ত, ঋতুস্রাবের আগে ‘ইনফেকশন’ হওয়া ঠেকায়। সাদা স্রাব বন্ধ করার কোনও প্রয়োজন নেই বা স্রাব দুর্বল করে না, জানান তসনিম।

অস্বাভাবিক স্রাব বা কোন স্রাব ক্ষতিকারক, কীভাবে বুঝবেন?

এই প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর দিয়েছেন তসনিম। এক্ষেত্রে স্রাবের কয়েকটি প্রকারভেদ করে বিষয়টির উপর আলোকপাত করেছেন এই চিকিৎসক।
কিছুটা দই বা পনিরের মতো চাকা চাকা স্রাব

তসনিমের কথায়, “এই স্রাবের ফলে যোনিতে চুলকানির সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক সময় ব্যাথা হতে পারে। যোনিতে যদি উপকারি জীবানুর সংখ্যা কমে ছত্রাকের সংখ্যা বেড়ে যায় তখন এই রোগ দেখা দিতে পারে। অ্যান্টি ফাঙ্গারাল ওষুধে তা সাধারণত সেরে যায়।”

ধূসর স্রাব সমস্যার কারণ

এই চিকিৎসক জানান, এই স্রাবে পচা মাছের মতো দুর্গন্ধ নির্গত হয়। যোনিপথে অনেক ব্যকটেরিয়া থাকে। সেই জন্য এই সমস্যা দেখা যায়।

সবুজ রংয়ের স্রাব

তসনিম জানাচ্ছেন, এই ধরনের স্রাব হলে তলপেটে সমস্যা দেখা যায়। এই রোগের ক্ষেত্রে উদ্বেগের কারণ রয়েছে। কারণ এক্ষেত্রে মহিলাদের গর্ভবর্তী হওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়।। কিন্তু, সময় মতো অ্যান্টিবায়োটিক নিলে এই রোগ সেরে যায় বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসক। তবে এই রোগ যৌনবাহিত । এই রোগ ধরা পড়লে স্বামীকেও চিকিৎসা করাতে হবে জানান তসনিম। যতদিন না রোগ সারে ততদিন সহবাস বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সবুজের সঙ্গে হলুদ মেশানো স্রাব

তসনিমের কথায়, “এই ধরনের স্রাব ফেনার মতো হতে পারে। এই রোগও যৌন বাহিত রোগ।”

লালস্রাব

অনেক মহিলাই লাল স্রাবের সমস্যায় ভোগেন। তাঁদের জন্য এই চিকিৎসকের বার্তা, “লালস্রাব মানেই দুঃশ্চিন্তার কারণ নেই। ঋতুমতী হওয়ার শুরুতেই যোনিদ্বার দিয়ে রক্ত আসা শুরু করেছে এবং তার সঙ্গে রক্ত মিশে এই ধরনের স্রাব হতে পারে। মাসিকের শেষের দিকে এই ধরনের স্রাব গেলে ডাক্তারের কাছে যাওয়া প্রয়োজন নেই।”

তিনটে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তসনিম। প্রথমত, ঋতুমতী হওয়ার সময় ছাড়া লাল স্রাব গেলে। স্বাভাবিক কারণেও তা হতে পারে। আবার জরায়ুতে ক্যানসারের কারণেও হতে পারে,দ্বিতীয়ত, সহবাসের পর রক্তপাত হলে, তৃতীয়ত, মেনোপজের পর লাল স্রাব হলে।

যোনিপথ সুস্থ রাখার উপায়

কীভাবে যোনিপথ সুস্থ রাখা সম্ভব? এই প্রশ্নের জবাবে তসনিম জারা তিনটি উপায় বাতলেছেন।

প্রথমত, যোনিপথে বাইরে থেকে কোনও সুগন্ধী, সাবান প্রয়োগ করা ঠিক নয়। কিছু করলেই সমস্যা দেখা যাব।

দ্বিতীয়ত, যোনিপথের বাইরে সাবান ব্যবহার করতে হবে।

তৃতীয়ত, সুতি কাপড়ের অন্তর্বাস পরতে হবে।




Leave a reply