পুতিনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চান জেলেনস্কি

|

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার অনুরোধ জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লোদিমির জেলেনিস্ক। শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, রুশ ফেডারেশনের প্রেসিডেন্টকে আমি বলতে চাই—ইউক্রেনের সর্বত্র লড়াই চলছে, সাধারণের মানুষের মৃত্যু বন্ধে চলুন আমরা আলোচনায় বসি।
পুতিনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চান জেলেনস্কি

এসময় রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। জেলেনস্কি বলেন, এই আগ্রাসন বন্ধে ইউরোপের শক্তিই যথেষ্ট। আমরা তাদের কাছে কী আশা করতে পারি—রাশিয়ানদের ভিসা বাতিল, সুইফট থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া, রাশিয়াকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া, রুশ কূটনীতিকদের প্রত্যাহার, তেল নিষেধাজ্ঞা ও বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া।

রাশিয়াকে থামাতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া যেতে বলে মন্তব্য করেন জেলেনস্কি। ইউরোপীয় নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা ঘরের বাইরে বের হয়ে যুদ্ধের বন্ধের দাবি করেন। এটি আপনাদের অধিকার। যখন কিয়েভে বোমা পড়ে, তখন তা ইউরোপেই ঘটছে। যখন ক্ষেপণাস্ত্রে আমাদের লোকজন নিহত হচ্ছেন, এটি সব ইউরোপীয়দের হত্যার শামিল।

জেলেনস্কি বলেন, এটি কেবল রাশিয়ার ইউক্রেনেই আগ্রাসন না, ইউরোপের মধ্যে যুদ্ধের শুরু। এদিকে কয়েক দিনের মধ্যেই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের পতন ঘটতে পারে বলে হুঁশিয়ারি করেছেন মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবর বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক ধারণা হচ্ছে—বর্তমানে যেভাবে হামলা এগোচ্ছে, তাতে এক থেকে চারদিনের মধ্যে রুশ নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে কিয়েভ।

বৃহস্পতিবার রাতে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, ইতিমধ্যে কিয়েভের ২০ মাইলের মধ্যে ঢুকে পড়েছে রুশ বাহিনী। তাদের বিশ্বাস—রুশ বাহিনীকে প্রত্যাশার চেয়েও কঠিন প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়েছে। তবে কিয়েভের পতন ঘটবে কি না, জানতে চাইলে ক্যাপিটল হিলের কর্মকর্তারা মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

এর আগে এক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন, রাশিয়া কিয়েভের দিকেই অগ্রসর হচ্ছে।

পশ্চিমাদের গোয়েন্দাদের সন্দেহ—কিয়েভ সরকারের পতন ঘটিয়ে সেখানে রুশ-বান্ধব ছায়া সরকার স্থলাভিষিক্ত করবে রাশিয়া। কিন্তু পরবর্তীতে ইউক্রেনের ভূখণ্ড রাশিয়া নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইবে কি না—তা কেউ পরিষ্কার করে বলতে পারেনি।

যে কোনো দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন ইউক্রেনের কর্মকর্তারা। শুক্রবার ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, কিয়েভের উত্তরের অবোলোন জেলায় প্রবেশ করেছে রুশ বাহিনী। পেট্রোল বোমা দিয়ে প্রতিরোধ গড়তে নাগরিকদের প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়েছেন।

কংগ্রেসের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির রুবেন গ্যালিগো বলেন, রাশিয়া যদি কিয়েভ দখল করতে যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রসহায়তা দেওয়া উচতি।

তিনি বলেন, আমাদের তৎপরতায় যদি কোনো প্রভাব না-পড়ে, তবে বুঝতে হবে—ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী আপস করেছে। তারপর প্রতিরোধ যোদ্ধাদের দিকে নজর দিতে হবে, যারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে চাইবে।




Leave a reply