বাংলাদেশর দুরন্ত লড়াই, পার্থক্য গড়ে দিল ফিল্ডিং

|

দুরন্ত লড়াইয়েও হার! পরবর্তী লড়াইয়ের জন্য বুক বাঁধছে বাংলাদেশ।

দিনভর টানটান উত্তেজনা, কখন শুরু হবে খেলা! সেই সময় এল বাংলাদেশের সময় বিকেল সাড়ে ৩টেয়। উত্তেজনার শেষ হলো রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে— ৮ উইকেটে ৩৩৩ রান। লড়াই করেও পেরনো গেল না ৩৮১ রানের প্রাচীর। টেনশনের শেষটা সে কারণেই দেশ জুড়ে বিষাদময়। মন খারাপের রাত আজ বাংলাদেশ ক্রিকেটের। তবে স্বস্তি, অস্ট্রেলিয়া এই জয় সহজে পায়নি। রীতিমতো ঘাম ঝড়িয়ে তাদের জয়ের মুখ দেখতে হলো। অস্ট্রেলিয়ার ৫ উইকেটে ৩৮১ রানের পাহাড় তাড়া করেছে টাইগার্স। মুখ থুবড়ে পড়েনি।

বাংলাদেশ জুড়ে গত দু’দিন ছিল আরেকটা পাহার পেরনোর স্বপ্ন। ৫১ বল হাতে রেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩২১ রান টপকে যাওয়ার পর পোক্ত হয়েছিলো স্বপ্ন। তাই শুধু ঢাকাতেই নয়, সকাল থেকে দেশের প্রায় সর্বত্র উড়ছিল সেই স্বপ্ন। সমর্থকরা মেলাচ্ছিলেন নানা সমীকরণ। স্কুল কলেজের পড়ুয়া থেকে আফিস ফেরত ভিড় সবাই তাড়া করছিল সাড়ে ৩টের মধ্যে টেলিভিশন সেটের সামনে জাঁকিয়ে বসার। কেউ পরিবারের সঙ্গে তো কেউ দল বেঁধে বন্ধুদের সঙ্গে দেখতে বসে ক্রিকেট যুদ্ধ। এক পক্ষ পাঁচ বার বিশ্বকাপ পাওয়া অস্ট্রেলিয়া, অন্য দিকে বাংলাদেশ, যারা অল্প সময়েই জানান দিয়েছে তাদের অবস্থান। বাংলাদেশ প্রতিপক্ষ হলে যে কোনও প্রতিপক্ষই এখন বেশ হিসেব করে মাঠে নামে।

ম্যাচে হারার পর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের অনেকেরই মত, ফিল্ডিংটাই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। যে কারণে ৩৮১ রানের পাহাড় টপকে জয় ছিনিয়ে আনাটা অসম্ভব হয়ে পড়ল। তবে ৩৮১-এর পাহাড় দেখে থমকে যায়নি মাশরাফি বাহিনী। তারা লড়াই করেছে, জানান দিয়েছে নিজেদের অবস্থান। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আশরাফুল আলম খোকনের বললেন, “ওয়েল ডান টাইগার্স, ফিল্ডিংটাই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।”

বিশাল লক্ষ্য সামনে থাকলেও কখনও নার্ভাস হয়নি বাংলাদেশ। অকাতরে তুলে দেয়নি উইকেট। সেই কারণেই শিক্ষক ও লেখক মলয় ভৌমিকের মন্তব্য, “বীরের মতো লড়েছে! বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে উইকেট হাতে রেখে পুরো পঞ্চাশ ওভার! সর্বোচ্চ রান! ব্যবধান কম। অভিনন্দন বাংলাদেশ!” পরাজয়ের কষ্ট থাকলেও রানের দৌড়ে খুব বেশি না পিছিয়ে থাকায় দেশজোড়া ভক্তরা একটু হলেও স্বস্তি পেয়েছে।

“আজকের ম্যাচে হারলেও সেই হারের সঙ্গে সঙ্গে একটা বিষয় প্রতিষ্ঠিত হয়ে উঠেছে, বাংলাদেশ এখন মাঠে হাল ছেড়ে দেয় না, লড়ে। শেষ বল পর্যন্ত লড়াইটা চালায়”— এভাবেই আনন্দবাজারের কাছে প্রতিক্রিয়া জানালেন ব্যাবসায়ী নূরুল ইসলাম। অন্য দিকে বাংলাদেশ দল নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় চিত্রকর চারু পিন্টু বললেন, “খুব ভাল খেলেছে বাংলাদেশ। ৩৩৩ রান অনেক, অন্তত অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। আমাদের বোলাররা ৩৫০-এর ভেতর আটকাতে পারলে হয়তো জিতে জেতে পারতাম। কপাল খারাপ। ফিল্ডিং, বোলিংয়ে যত্ন নেওয়া উচিত। জয় হোক ক্রিকেটের।”

এমন নানা প্রতিক্রিয়ায় মাঝেই চলছে হারের হিসাব নিকাশ। সামনে পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং ভারতের মোকাবিলায় আজকের এই খেলার অভিজ্ঞতা শক্তি হিসাবে কাজ করবে। আফগানিস্তান বা পাকিস্তানকে সহজে হারিয়ে ভারতের সঙ্গেও জয় চাই। আশায় বুক বাঁধছে গোটা দেশ। আফগানিস্তান আর পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করলেই স্পষ্ট হয়ে যায়, শক্তি ও সামর্থে বাংলাদেশ এখন অনেক এগিয়ে। ভারত কঠিন প্রতিপক্ষ, কিন্তু বাংলাদেশও টক্করটা দিতে জানে। মাশরাফির নেতৃত্বে যে দলে শাকিব, তামিম, মুশফিক, লিটন, মুস্তাফিজ, সৌম্য, রুবেল রয়েছে, যে কোনও প্রতিপক্ষের জন্যই তারা বড় হুমকি।




Leave a reply