কিয়েভ দখল করা নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ভারতীয়দের দেশে ফেরা নিয়েও বিশেষ সতর্কতা জারি

|

দেশের সেনাবাহিনীর প্রশংসা করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানান, রাশিয়ার সেনারা ইউক্রেনে সাহসিকতা, পেশাদারিত্বের সঙ্গে বীরের মতো নিজেদের দায়িত্ব পালন করছেন। সিকিউরিটি কাউন্সিলের বৈঠকে পুতিন বলেন, ইউক্রেনে জঙ্গি ও নিও-নাজ়িদের সঙ্গে যুদ্ধ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি ইউক্রেনের সেনাকে কিয়েভ থেকে নেতৃত্বদের সরিয়ে দেওয়ার কথাও বলেন। ইউক্রেনে সুদিন আনবেন, এই প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

  • দুই দেশের মধ্যে যখন লাগাতার আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ চলছে, সেই সময়ই শুক্রবার পুতিন বলেন, “আমি ফের একবার ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর সেনা জওয়ানদের অনুরোধ করছি, নিও-নাজ়ি এবং ইউক্রেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিগুলিকে নিজেদের স্ত্রী, সন্তান ও বয়স্কদের মানবঢাল হিসাবে ব্যবহার করতে দেবেন না”। ইউক্রেনীয় সেনা যদি নিজের হাতে ক্ষমতা তুলে নেয়, তবে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে কোনও চুক্তি বা সম্মতিতে পৌঁছনো সহজ হবে বলে জানান পুতিন।
  • ইউক্রেনে আটকে থাকা অধিকাংশ ভারতীয় পড়ুয়াদের দাবি, বিগত ৩-৪দিনেই পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। বাঙ্কারগুলিও ভর্তি হয়ে এসেছে। রাস্তাঘাটে বেরনো যাচ্ছে না, ক্রমাগত গুলি-বোমা বর্ষণ হচ্ছে। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আগেই তারা কেন দেশে ফিরে আসেননি, এই প্রশ্নের জবাবে তারা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত সংখ্যক বিমান না থাকায় এবং টিকিটের সর্বনিম্ন দামই ৭০ থেকে ৯০ হাজার টাকা হওয়ায়  অনেকের পক্ষেই এই মুহূর্তে ফিরে আসা সম্ভব হচ্ছে না। কেন্দ্রের তরফেও যে বিশেষ বিমানের ব্যবস্থা করা হয়েছে, সেখানেও কীভাবে পড়ুয়ারা পৌঁছবেন, তাও জানেন না।

খারকিভ ন্যাশনাল মেডিকেল ইউনিভার্সিটির এক পড়ুয়া জানান, পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা কলেজের কয়েকজন বন্ধু অস্থায়ী বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছি। কেন্দ্রের তরফে উদ্ধারকারী বিমান পাঠানোর কথা বললেও, এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের পশ্চিম সীমান্তে পৌঁছনো অসম্ভব। এখান থেকে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরে ওই সীমান্ত। আমরা বাড়ির সামনের সুপারমার্কেটেই যেতে পারছি না, ইউক্রেন সীমান্তে যাওয়া তো দূরের কথা। সারাদিন ধরেই বোমাবর্ষণের শব্দ শুনতে পাচ্ছি। কোথায় যাব, কীভাবে যাব, সে সম্পর্কে কিছুই জানানো হয়নি আমাদের।

পড়ুয়াদের দেশে ফিরিয়ে আনার আর্জি নিয়ে দিল্লিতে পরিবারের সদস্যরা।

রাশিয়ার হামলার পরই জানিয়েছিলেন, তাঁকে নিশানা বানানো হচ্ছে। এবার দেশকে রক্ষা করতে হাতে বন্দুকও তুলে নিলেন ইউক্রেন(Ukraine)-র প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জ়েলেনস্কি (Volodymyr Zelensky)।  শুক্রবারই তিনি সেনাদের সঙ্গে রাস্তায় বসে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন। গাঢ় সবুজ রঙের মিলিটারি পোশাক পরে, প্রেসিডেন্সি বিল্ডিংয়ের বাইরে প্রধানমন্ত্রী, চিফ অব স্টাফ সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিকদের পাশে নিয়েই রাশিয়ার চাপের জবাব দিতে দেখা যায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জ়েলেনস্কিকে। দেশবাসীর উদ্দেশে পোস্ট করা ভিডিয়ো বার্তায় তিনি বলেন, “আমরা সবাই এখানে রয়েছি। আমাদের মিলিটারি বাহিনী রয়েছে। সমাজের সাধারণ মানুষও রয়েছে। আমরা সবাই মিলেই আমাদের স্বাধীনতার জন্য, দেশের জন্য লড়াই করছি। আগামিদিনেও এইরকমভাবেই একসঙ্গে থাকব আমরা।”

ইউক্রেনে (Ukraine) হামলা চালানোয় একদিকে যেমন চটেছে ন্যাটো(NATO)-র সদস্য দেশগুলি, তেমনই আবার খুশি নন রাশিয়া(Russia)-র সাধারণ মানুষ। শুক্রবারই প্ল্যাকার্ড, পতাকা হাতে পথে নামেন কয়েকশো মানুষ। প্রেসিডেন্ট পুতিনের সামরিক অভিযান চালানোর নিন্দা করে তারা পথে বিক্ষোভ দেখান। দেশের জনতার বিক্ষোভের মুখে পড়ে এবার আরও কঠোর হল রুশ প্রশাসন। শুক্রবারই প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, ফেসবুক(Facebook)-র উপর আংশিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, ইউক্রেনের উপর হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রেমলিনের সমর্থনপ্রাপ্ত একাধিক সংবাদমাধ্যম যেভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় মস্কোকে নিশানা বানিয়েছে, তার আঁচ দেশবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়া থেকে রুখতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে রুশ প্রশাসন।

কিয়েভের মেয়র জানান, শহরের আশেপাশের অঞ্চলে ভারী গোলাবর্ষণ ও গুলি চালানোর খবর পাওয়া গিয়েছে। রাশিয়ার সেনা ইতিমধ্যেই কিয়েভে ঢুকে পড়েছে। ওদের প্রধান লক্ষ্যই হল রাজধানী দখল করে গোটা দেশের উপর আধিপত্য জারি করা।  অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জ়েলেনস্কিও টুইট করে জানিয়েছেন, পূর্বের চেরেনিহিভ, মেলিটোপোল ও হস্টোমল শহরে ভারী সংঘর্ষ হয়েছে। বহু সেনা মারা পড়েছে।

বিপদ বেড়েই চলেছে ইউক্রেনে। বৃহস্পতিবারই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন, এরপরই স্থল, জল ও আকাশ পথে প্রতিবেশী দেশের উপর আক্রমণ শুরু করে রাশিয়া। সীমান্ত পার করে এবার রাজধানী কিয়েভের দিকেই এগোচ্ছে রুশ সেনা। শুক্রবার রাতেই ইউক্রেনের রাজধানীতে রাশিয়ান সেনার ঢুকে পড়ার খবর পাওয়া যায়। কিয়েভের আশেপাশের অংশেও আজ সকাল থেকেই দুই দেশের সেনার মধ্যেই ঘনঘন সংঘর্ষ বেঁধেছে।




Leave a reply