নদীর জলে কয়েন ছোড়া কুসংস্কার নয় বরং এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক গভীর বিজ্ঞান

|

ভারত একটি ঐতিহ্যময় দেশ। আমাদের এই ভারতবর্ষে এমন অনেক বিষয় ঘটে যায় যার অর্থ আমরা অনেক সময় বুঝতে পারি না। আজও ভারতবর্ষের বুকে এমন অনেক কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে যা শুনলে আমাদের গায়ে কাঁটা দেবে। তবে কিছু কিছু কুসংস্কার রয়েছে যার পেছনে রয়েছে কিছু বৈজ্ঞানিক আখ্যা। পুরাতন যুগের অশিক্ষিত মানুষদের বোঝানোর জন্য ভয় দেখাতে হত, তারা বিজ্ঞানের অর্থ বুঝতে পারত না তাই ঈশ্বরের ভয় দেখিয়ে এই সমস্ত রীতি-নীতি মানতে বাধ্য করা হতো সকলকে।

তেমন একটি চিরাচরিত প্রথা হল কোন নদীর ধারে যখন আমরা যাই তখন এক টাকার মুদ্রা নদীতে ফেলে দিই। এই কাজ করলে আমাদের সৌভাগ্য আসে এমনটাই আমরা মনে করি। কিন্তু এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে আরও একটি কারণ।
যখন নদীতে পয়সা ফেলার এই প্রথা শুরু হয়েছিল, তখন ব্যবহার করা হতো তাম্রমুদ্রা। জল বিশুদ্ধ করনের জন্য তামা ব্যবহার করা হয় এটা আমরা সকলেই জানি। তাই মানুষ যখন পুকুরের পাশ দিয়ে যেতেন তখনই একটি তামার মুদ্রা সেই নদীতে ফেলে দিতেন। এই কাজটি করলে সেই মানুষটির মনোকামনা কতখানি পূরণ হতো সেটা জানা না গেলেও জল কিন্তু পরিষ্কার হয়ে যেত অনেকটাই।

জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, যদি কোন মানুষ দোষ ত্রুটি নিবারণ করতে চায় তাহলে জলে মুদ্রা অথবা পুজোর উপকরণ ফেলে দিতে হয়। অনেকে তামার মুদ্রার পাশাপাশি রৌপ্য মুদ্রা ভাসিয়ে দিত জলে। তবে এই সমস্ত রৌপ্যমুদ্রা ডুবুরিরা পরবর্তী সময়ে নদীর তলদেশ থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসত। তাহলে আজ থেকে যখনই আপনি নদীতে অথবা পুকুরে কয়েন ফেলবেন তখন জেনে রাখবেন এটি কোন কুসংস্কার নয় বরং এটি আপনার পৃথিবীতে সবচেয়ে রাখতে সাহায্য করছে নতুন করে।




Leave a reply