হজমের সমস্যা নিরসনে কিভাবে ডায়েট করবেন?

|

হজমের সমস্যায় ভুগছেন? হজমের সমস্যা হলেই কেবল বোঝা যায়, কতটা বিরক্তিকর বিষয়টি। খাবারের অনিয়ম, পানি কম খাওয়া, ভাজাপোড়া বেশি খাওয়া ইত্যাদি সব কিছুতেই হজমের সমস্যা সৃষ্টি হয়।

সকাল হতে না হতে একগাদা কাজ। রান্না করে, সংসার গুছিয়ে, তারপর অফিসের ঠেলা সামলানো কী মুখের কথা! আর এসবের চক্করে ব্রেকফাস্ট যে মাথায় উঠবে, তা কে না জানে।

অফিস পৌঁছেও একই চিত্র। কাজের ফাঁকে অনবরত চা-কফি, লাঞ্চে একগাদা বাইরের খাবার আবার বিকেলেও তাই। রাতে ফিরে এসে ভরপেট ডিনার। যাঁদের দৈনিক ডায়েট রুটিন এই নিয়মেই চলছে, হলপ করে বলতে পারি প্রায় প্রত্যেকেই হজমের সমস্যায় ভুগছেন।

নিজে কী করছেন সেদিকে লক্ষ নেই, অথচ রাত-দিন দুষিয়ে চলেছেন আপনার শরীরকে। আরে বাবা, সেও তো একটা যন্ত্র। সঠিক সময়ে সঠিক জ্বালানি না পেলে, সেই বা কাজ করে কীভাবে? অসুবিধায় পড়ে সে বেচারা একের পর এক সিগন্যাল দিয়ে চলেছে। চোঁয়া ঢেকুর ওঠা, বুকে ব্যথা, অ্যাসিডিটি কিংবা পেট ফেঁপে থাকার মতো একাধিক লক্ষণেও আপনার ভ্রুক্ষেপ নেই। একান্তই প্রয়োজন হলে খান-কতক ট্যাবলেট পেটে চালান করেই ভাবছেন সব সমস্যার সমাধান করে ফেলেছেন।

দিনের পর দিন এই এক ঘটনা সহ্য করতে না পেরে যখন শরীর বাবাজির একেবারে হাত তুলে দেওয়ার উপক্রম, তখন আপনি সামান্য নড়েচড়ে বসছেন। কিছুদিন ঠিক থাকার পর আবার যে কে সেই। নিজেই ভাবুন, এভাবে চলতে থাকলে, শরীরের সমস্যা হবে না তো আর কার হবে? হজমের সমস্যা সাধারণ হলেও, তা কিন্তু প্রথম থেকে কারওর থাকে না। অস্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইল, খাওয়াদাওয়ার অনিয়ম, অসময়ে ভুলভাল খাবার খাওয়ার অভ্যেস—এই সবক’টা কারণের স্তর পেরিয়ে তবে শরীরে এই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এখন প্রশ্ন হল, এর থেকে বেরনোর উপায় কী? উপায় তো একটাই। শরীরকে যখন নিজে ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছেন, তখন হালটাও আপনাকেই ধরতে হবে। প্রথমেই এমন খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, যাতে শরীরে অ্যাসিডের পরিমাণ কমে। আর অ্যাসিডকে নিউট্রালাইজ় করতে পারে ক্ষার। টাটকা ফল, সবজি, আলু, লাউ, মধু, কচু, বিন, কিশমিশ, টকদই ইত্যাদি খাবার শরীরে ক্ষার তৈরি করতে সাহায্য করে। এই খাবারগুলো ডায়েটে রাখবেন তো বটেই। পাশাপাশি যে সব খাবার শরীরে অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়াবে, সেরকম খাবার যেমন, অ্যালকোহল, কফি, কর্নস্টার্চ, ময়দা, মাংস, ভাজাভুজি, শুকনো নারকেল, সফ্ট ড্রিংকস, চিনি, আচার ইত্যাদি খাবারের পরিমাণও কমাতে হবে।

শরীরের প্রয়োজনীয় ক্যালরিটুকু বাদে অতিরিক্ত ক্যালরি যেন শরীরে না পৌঁছয়, সেদিকেও নজর রাখুন। আসল কথা হল শরীরকে হালকা রাখা। সারাদিনের ডায়েটে মোটামুটি ৩০০ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১০০ গ্রাম প্রোটিন এবং সব মিলিয়ে মোটামুটি ২৫০০-৩০০০ কিলোক্যালরি থাকলেই যথেষ্ট। মেথি, মূলো, মৌরি, আদা ইত্যাদি খেতে পারেন। এগুলো মুখের স্বাদ বাড়াতে সাহায্য করে এবং খিদেও বাড়ায়। একেবারে বেশি পরিমাণে না খেয়ে অল্প করে বার বার খান। যাঁদের অ্যাসিডিটির সমস্যা রয়েছে, তাঁরা ঠান্ডা দুধ খেলেও উপকার পাবেন। যদি কারওর দুধে অ্যালার্জি থাকে, সেক্ষেত্রে হুইট গ্রাস জুস খান। সকালে খালি পেটে বেশিক্ষণ থাকার অভ্যেস অবিলম্বে ত্যাগ করুন। আয়েশ করে ব্রেকফাস্ট করুন। কর্নফ্লেক্স, ব্রাউন ব্রেড, ওটস, তিল, চারমগজ ইত্যাদি খাবার খেতে পারেন। লাঞ্চে অবশ্যই টাটকা সবজি এবং ফল রাখুন। নিয়মিত এক্সারসাইজ় করুন।








Leave a reply