মার্কিন ড্রোনের ছত্রছায়ায় রুশ যুদ্ধজাহাজে হামলা!

|

কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজে ইউক্রেনের গানবোটের হামলার চেষ্টাকালে আকাশ থেকে মার্কিন ড্রোনের নির্দেশনা দেওয়ার সম্ভাব্যতার রয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আইগর কোনাশেনকভ এমন দাবি করেছেন।

শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, আমি এই ঘটনায় বিশেষভাবে মনোযোগ আকর্ষণ করছি, ইউক্রেনের নৌযানের হামলার সময় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত আরকিউ-৪ গ্লোবাল হউক ও এমকিউ৯এ রিপার মানবিহীন যান ওই অঞ্চলের আকাশে উড়ছিল।

আইগর কোনাশেনকভের দেওয়া তথ্যানুসারে, ইউক্রেনের নৌবাহিনীর ১৬টি গানবোট ঝাঁক বেঁধে ঝিমিনি দ্বীপের কাছে রুশ যুদ্ধজাহাজে হামলার চেষ্টা করেছে। তখন আত্মসমর্পণ করা ইউক্রেনের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ৮২ সদস্যকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।

এসব নৌযান বেসামরিক নৌকাগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করেছে। লড়াইয়ের সময় ছয়টি ইউক্রেনীয় নৌকা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তবে আটক ইউক্রেনীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সদস্যরা কেউ আহত হননি।

এদিকে ইউক্রেনের শহর খারকিভে রুশ বাহিনীর প্রবেশের ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিবিসির সত্যতা যাচাইকরা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ইউক্রেনের সেনারা দেয়ালের আড়ালে আশ্রয় নিচ্ছেন, তখন কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

২০১৯ সাল থেকে দায়িত্বপালনকালে রাশিয়ার সেনাদের স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কারণ তাদের সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারের ব্যাপকতা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগ তৈরি করেছে।

কিন্তু যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার পর সরেজমিনে কী হচ্ছে, সেই ছবি শেয়ার করছে ইউক্রেনের বাহিনী।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের জবাবে নিষেধাজ্ঞার একমাত্র বিকল্প হচ্ছে ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’। তাৎক্ষণিকভাবে এর বাইরে কোনো বিকল্প নেই।

ইতিমধ্যে রাশিয়ার কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, ব্যাংক ও পুরো অর্থনৈতিক খাতের ওপর সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বাইডেন বলেন, বিষয়টি এমন না যে, আপনি কারো বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারেন এবং বলবেন আপনি আর ‘উহ’ শব্দটিও করতে পারবেন না। আমি মনে করি, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে এমন নিষেধাজ্ঞা আরও কখনো আরোপ করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, শুরু থেকেই আমার লক্ষ্য হচ্ছে, ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে একই অধ্যায়ে রাখা।




Leave a reply